উত্তর কোরিয়া সম্প্রতি একটি নতুন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র উন্মোচন করেছে। পারমাণবিক বোমার জ্বালানি উৎপাদনে সক্ষম এই অত্যাধুনিক স্থাপনা পরিদর্শনের সময় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন ঘোষণা দিয়েছেন যে, তার দেশ পারমাণবিক অস্ত্রের ভাণ্ডারকে ‘জ্যামিতিক হারে’ সম্প্রসারিত করবে।
বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) এই নতুন প্ল্যান্টের বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত ছবিগুলোতে দেখা যায়, কিম সরু করিডোর ধরে হেঁটে যাচ্ছেন, যার দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে রূপালি রঙের নল ও পাইপ স্থাপন করা আছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সরঞ্জামগুলো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে ব্যবহৃত সেন্ট্রিফিউজ হলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আরেকটি ছবিতে কিমকে একটি বৈঠক কক্ষে দেখা যায়, যেখানে টেবিলের ওপর একটি অস্পষ্ট চিত্র রাখা ছিল। এই চিত্রটিতে শঙ্কু আকৃতির একটি বস্তুর নকশা স্পষ্ট ছিল, যা সম্ভবত পারমাণবিক ওয়ারহেডের নকশা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কেসিএনএ আরও জানিয়েছে যে, এই নতুন স্থাপনাটিতে ‘আরও উন্নত প্রযুক্তি’ ব্যবহার করা হয়েছে। তবে, এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এটি উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের তথ্য প্রকাশের তৃতীয় ঘটনা। এর আগে ২০১০ সালে ইয়ংবিয়ন পারমাণবিক কমপ্লেক্সে অনুরূপ একটি স্থাপনা প্রদর্শন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে আরেকটি গোপন স্থাপনার ছবি প্রকাশ করা হয়। গত সেপ্টেম্বর মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার একীকরণমন্ত্রী জানিয়েছিলেন যে, উত্তর কোরিয়ার এমন চারটি স্থাপনায় নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
স্থাপনাটি পরিদর্শনের সময় কিম জং উন মন্তব্য করেন, "শত্রুদের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানের কারণে পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতাকে গুণগত ও পরিমাণগত- উভয় দিক থেকেই শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে।" বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়াকেই ইঙ্গিত করেছেন।
কিম আরও দাবি করেছেন যে, গত পাঁচ বছরের তুলনায় উত্তর কোরিয়ার ‘পারমাণবিক উপাদানের উৎপাদন সক্ষমতা দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে’। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, কিমের প্রধান লক্ষ্য হলো উত্তর কোরিয়াকে একটি পারমাণবিক রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় করা। এরপর তিনি জাতিসংঘের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে পারেন। ভবিষ্যতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে অস্ত্র হ্রাস সংক্রান্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে তার পারমাণবিক সক্ষমতা আংশিকভাবে সীমিত করার বিনিময়ে কিছু সুবিধা অর্জনের চেষ্টা করতে পারেন বলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
