জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার ঝাড়কাটা বাজারের উত্তর পাশে স্থানীয় কৃষি জমির পানি নিষ্কাশনের জন্য এলজিইডির অর্থায়নে নির্মিত সেতুর মুখ ভরাট করা হয়েছে। প্রায় ৩ কোটি ৪৬ লাখ ৯০ হাজার ৬৯৪ টাকা ব্যয়ে ২০২৫ সালে নির্মিত এই সেতুটি এলাকাটির ফসলি জমির পানি দ্রুত ভাটিতে সরিয়ে নিতে সহায়তা করতো, যার ফলে জমি দ্রুত চাষাবাদের উপযোগী হতো। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সেতুর মুখে মাটি ভরাট করে খামার নির্মাণের কাজ চলছে, যা পানির স্বাভাবিক প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করছে।
এলাকাবাসীর পক্ষে সাইফুল ইসলাম নামের এক যুবক মাদারগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলীর কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগকারীদের ভাষ্যমতে, মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আলমগীর কবিরের ছোট ভাই আকরামুল কবির এই মাটি ভরাট করছেন। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, দ্রুত এই অবৈধ ভরাট অপসারণ করা না হলে আসন্ন বর্ষা ও বন্যার সময় বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ও জনবসতিতে মারাত্মক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে এবং কৃষকরা তাদের জমি চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। এছাড়া, সরকার দলীয় রাজনৈতিক প্রভাবে এলাকাবাসীকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযুক্ত আকরামুল কবির দাবি করেছেন, তিনি তার নিজস্ব জমিতে খামার নির্মাণের পরিকল্পনা করেছেন এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, তাই জলাবদ্ধতার কোনো আশঙ্কা নেই। মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আলমগীর কবিরের ভাষ্যমতে, সেতুটি অপ্রয়োজনীয়ভাবে নির্মিত হয়েছে এবং তার ভাইয়ের জমিতে খামার করার জন্য মাটি ভরাট করা হলেও পানি প্রবাহের জন্য পথ রাখা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। মাদারগঞ্জ এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত চলছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরীও নিশ্চিত করেছেন যে, সরকারি স্থাপনা বা পানির স্বাভাবিক প্রবাহে কেউ বাধা সৃষ্টি করলে আইনানুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

