বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা সাত ম্যাচে গোল করে মেসির নতুন রেকর্ড

৩৯ বছর বয়সে এসেও ফুটবল ইতিহাসকে নিজের মতো করে নতুনভাবে সাজাচ্ছেন লিওনেল মেসি। গত সোমবার টেক্সাসের ডালাস স্টেডিয়ামে জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে ৮০ মিনিটে একটি দৃষ্টিনন্দন ফ্রি-কিক থেকে গোল করে বিশ্বকাপে এক অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়েছেন এই মহাতারকা। বিশ্বকাপের মঞ্চে টানা সাতটি ম্যাচে গোল করার একক বিশ্বরেকর্ড এখন শুধুই এই আর্জেন্টাইন অধিনায়কের দখলে। এর আগে টানা ছয় ম্যাচে গোল করার রেকর্ড ছিল ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন (১৯৫৮) এবং ব্রাজিলের জাইরজিনহোর (১৯৭০)। জর্ডানের বিপক্ষে এই জাদুকরী গোলটি করে ফন্টেইন ও জাইরজিনহোকে পেছনে ফেলে ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে টানা সাত ম্যাচে গোলের কীর্তি স্থাপন করলেন মেসি, যা বর্তমানে অন্য কোনো ফুটবলারের ধারেকাছে নেই।

মেসির এই অসাধারণ রেকর্ডের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে ফুটবল বিশ্বের অন্যান্য কিংবদন্তিরা এই তালিকায় কোথায় রয়েছেন। সর্বোচ্চ তিনবার বিশ্বকাপ জয়ী পেলের টানা ম্যাচে গোল করার রেকর্ড মাত্র তিন ম্যাচের, যা তিনি ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনালে করেছিলেন। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার আরেক কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার বিশ্বকাপে টানা গোল করার রেকর্ড কেবল দুই ম্যাচের। ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে তিনি কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড এবং সেমিফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচে জোড়া গোল করেছিলেন। অর্থাৎ, বিশ্বকাপের ধারাবাহিকতায় পেলে বা ম্যারাডোনা কেউই মেসির এই অতিমানবীয় রেকর্ডের অর্ধেকের কাছাকাছিও পৌঁছাতে পারেননি।

আধুনিক ফুটবলের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার রেকর্ড গড়লেও টানা ম্যাচে গোলের ক্ষেত্রে অনেকটাই পিছিয়ে। বিশ্বকাপে রোনালদোর টানা গোল করার সর্বোচ্চ রেকর্ড মাত্র তিন ম্যাচের, যা তিনি ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে স্পেন ও মরক্কোর বিপক্ষে করেছিলেন। এরপর বিশ্বকাপে তিনি আর টানা গোল করতে পারেননি। এছাড়া বর্তমান সময়ের তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পেও ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার পরও তার টানা ম্যাচে গোল করার রেকর্ড মাত্র তিন ম্যাচের।

চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে নিজের ষষ্ঠ গোলটি করে গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অধিনায়ক মেসি। কাতার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের তিন ম্যাচ, বর্তমান আসরের গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচ এবং জর্ডানের বিপক্ষে বদলি নেমে গোল—সব মিলিয়ে টানা সাতটি ম্যাচের প্রতিটিতেই জালের দেখা পেয়েছেন এলএমটেন। ৩৯ বছর বয়সেও প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে যেভাবে এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন, তা তাকে সর্বকালের সেরা হিসেবে প্রমাণ করে। মেসির এই নতুন ইতিহাস গড়ার দিনে জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা, যেখানে আগামী ৩ জুলাই তাদের প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে।