বর্ণবাদী ট্রাক হামলায় নিহত মুসলিম পরিবারকে শ্রদ্ধা জানালো ওন্টারিওবাসী

বর্ণবাদ ও ইসলামভীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের অঙ্গীকার

কানাডার ওন্টারিও প্রদেশের লন্ডন শহরে পাঁচ বছর আগে বর্ণবাদী ও ইসলামভীতি (ইসলামোফোবিয়া) থেকে চালানো এক নৃশংস ট্রাক হামলায় নিহত একই মুসলিম পরিবারের চার সদস্যকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছে স্থানীয় কমিউনিটি। ষষ্ঠ বার্ষিকীর এই দিনে বর্ণবাদ ও ইসলামভীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

নৃশংস হামলা ও হতাহতের ঘটনা

২০২১ সালের ৬ জুন সন্ধ্যায় আফজাল পরিবার প্রতিদিনের মতো হাঁটার জন্য বের হয়েছিলেন। ঠিক তখনই এক উগ্র শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদী যুবকের চালানো ভারী পিকআপ ট্রাক তাঁদের ওপর তুলে দেওয়া হয়। এই হামলায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান সালমান আফজাল (৪৬), তাঁর স্ত্রী মাদিহা সালমান (৪৪), তাঁদের ১৫ বছর বয়সী কন্যা ইউমনা এবং সালমানের মা তালাত আফজাল (৭৪)। এই ভয়াবহ হামলায় অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত হয়েছিল পরিবারটির তৎকালীন নয় বছর বয়সী একমাত্র সন্তান।

ঐতিহাসিক রায় ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের প্রয়োগ

পরবর্তীতে ২০২৩ সালে এক ঐতিহাসিক রায়ে আদালত এই হত্যাকাণ্ডকে ‘সন্ত্রাসী কাজ’ হিসেবে আখ্যা দেয়। শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদে উদ্বুদ্ধ সেই হামলাকারীকে চারটি ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডার এবং একটি হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। কানাডার ইতিহাসে এটিই প্রথম মামলা যেখানে ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডারের বিচারে দেশটির সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রয়োগ করা হয়েছিল।

সংহতি ও দায়িত্ববোধের প্রতীক

স্মরণসভায় অংশ নিয়ে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বলেন, “লন্ডন শহরের ইতিহাসে এটি এমন একটি কালো অধ্যায় যা কখনো মুছে যাওয়ার নয়। আমরা তাঁদের শুধু হারানোর বেদনায় স্মরণ করছি না, বরং তাঁদের স্মৃতি আমাদের এই শহরে যে সংহতি, সহানুভূতি, সাহস এবং যেকোনো ধরনের ঘৃণার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর দায়িত্ববোধ তৈরি করেছে, তাকে সম্মান জানাতে আজ এখানে একত্রিত হয়েছি।”

মুসলিম মানবাধিকার সংগঠনের দাবি

এদিকে, এই ঘটনার পাঁচ বছর পূর্তিতে কানাডার ফেডারেল সরকারের প্রতি ইসলামভীতি দূরীকরণে দেওয়া পূর্বের প্রতিশ্রুতি ও সুপারিশগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে দেশটির মুসলিম মানবাধিকার সংগঠনগুলো। কানাডিয়ান মুসলিম পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলের প্রধান খালেদ আল-কাজাড পার্লামেন্ট হিলে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, “বছরের পর বছর নানা সমীক্ষা ও সরকারি প্রতিশ্রুতির পরও কানাডায় মুসলিমরা প্রতিনিয়ত বৈষম্য, হয়রানি ও সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। এটি কেবল ব্যক্তিগত ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ নয়, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যেও এর প্রভাব রয়েছে।”

সুরক্ষা ও কঠোর আইনের আহ্বান

সংগঠনটির পক্ষ থেকে মসজিদ ও মুসলিম স্কুলগুলোর সুরক্ষায় ৪০ মিলিয়ন ডলারের ফেডারেল ফান্ড বরাদ্দ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্ণবাদী ও উগ্রপন্থী কনটেন্ট ছড়ানো বন্ধে কঠোর আইন প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।