বগুড়ার মম ইন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারীসহ বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন, বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুহিত তালুকদার এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক আহসানুল তৈয়ব জাকির, প্রকল্প পরিচালক এবং প্রশিক্ষণ প্রদানকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব-উল-আলম অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন। ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত ছিলেন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় দুই হাজার প্রশিক্ষণার্থী এবং প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সমন্বয়কারীরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা এই উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, প্রযুক্তিভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নে সরকারের এই উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সহায়ক হবে। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়মিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম জানান, শিক্ষার্থীদের আধুনিক এআই টুল ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে যাতে তারা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের যোগ্য করে তুলতে পারেন।
সভাপতির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব-উল-আলম জানান, এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন যুবদের এআই প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলা। এটি প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়তা করবে।
প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে দেশের ৬৪টি জেলা থেকে ২৫ জন করে মোট এক হাজার ৬০০ জনকে নির্বাচন করা হয়েছে। মোট ৪৪৮টি ব্যাচে এই প্রশিক্ষণ পরিচালিত হবে, যেখানে প্রতি ব্যাচে ২৫ জন শিক্ষার্থী থাকবেন। প্রতিটি কোর্সের মেয়াদ দুই মাস এবং এতে ৫০টি ক্লাসের মাধ্যমে মোট ৩০০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এছাড়াও অনুষ্ঠানে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ফ্রিল্যান্সিং প্রকল্পের আওতায় বিভাগীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ আয়কারী আটজন ফ্রিল্যান্সারকে ল্যাপটপ এবং রাজশাহী বিভাগের ২৪ জন ফ্রিল্যান্সারকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

