গ্রুপ সেরা হতে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামছে নেদারল্যান্ডস

২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এফ’-এর শেষ ম্যাচে বৃহস্পতিবার কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে একে অপরের মুখোমুখি হবে তিউনিসিয়া ও নেদারল্যান্ডস। নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করার পাশাপাশি ডাচদের মূল লক্ষ্য এখন গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া। অন্যদিকে, টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে যাওয়া তিউনিসিয়া মাঠে নামবে কেবল সম্মান রক্ষার লড়াইয়ে।

চলতি বিশ্বকাপে দ্বিতীয় ম্যাচে সুইডেনকে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত করে প্রথম জয় পেয়েছে নেদারল্যান্ডস। সেই ম্যাচে ব্রায়ান ব্রবি ও কোডি গাকপোর জোড়া গোল এবং শেষ দিকে ক্রিসেনসিও সামারভিলের গোল ডাচদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

এর আগে রোনাল্ড কোমানের শিষ্যরা জাপানের সাথে ২-২ গোলে ড্র করেছিল। সুইডেনের বিপক্ষে দাপুটে জয়ের পর চার পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে গ্রুপ টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে তারা। তিউনিসিয়াকে হারাতে পারলে শেষ ৩২-এর পাশাপাশি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়াও নিশ্চিত হবে তাদের।

অন্যদিকে তিউনিসিয়ার জন্য এবারের বিশ্বকাপ ছিল চরম হতাশার। নিজেদের প্রথম ম্যাচে সুইডেনের কাছে ৫-১ গোলে হারের পর কোচ সাবরি লামুশিকে বরখাস্ত করে হার্ভে রেনার্ডের হাতে দায়িত্ব তুলে দেয় দেশটির ফুটবল ফেডারেশন। কিন্তু তাতেও ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি। দ্বিতীয় ম্যাচে জাপানের কাছে ৪-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে উত্তর আফ্রিকার দলটির।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে তিউনিসিয়া এখন পর্যন্ত মাত্র তিনটি ম্যাচ জিতেছে। ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে খেলা ১৩ ম্যাচে তাদের একমাত্র জয়টি এসেছে অনেক বছর আগে, ফলে পরিসংখ্যানও তাদের পক্ষে নেই।

দলীয়ভাবে তিউনিসিয়া আপাতত কিছুটা স্বস্তিতে আছে। কোনো ইনজুরি সমস্যা না থাকায় কোচ রেনার্ড পুরো স্কোয়াডকেই পাচ্ছেন। তবে জাপানের বিপক্ষে বড় হারের পর রক্ষনভাগে কিছু রদবদল আসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না।

অন্যদিকে নেদারল্যান্ডস শিবিরে কুইন্টেন টিম্বার কনকাশন কাটিয়ে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। সুইডেনের বিপক্ষে জোড়া গোল করা ব্রবি শুরুর একাদশে থাকার সম্ভাবনা বেশি। মাঝমাঠে ফ্রেংকি ডি ইয়ং, তিজানি রেইন্ডার্স ও রায়ান গ্রাভেনবার্খের ওপরই আস্থা রাখছেন কোমান।

সাম্প্রতিক ফর্ম, শক্তিমত্তা এবং অভিজ্ঞতার বিচারে নেদারল্যান্ডস পরিষ্কার এগিয়ে। তাই গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ডাচদের আরেকটি সহজ জয়ের পূর্বাভাস দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।

তিউনিসিয়া: দাহমেন; ভ্যালেরি, রেকিক, তালবি, আলি আবদি; স্কিরি; বেন স্লিমানে, হ্যানিবাল; শাওয়াত, সাদ, মাস্তুরি।

নেদারল্যান্ডস: ফেরব্রুগেন; ডামফ্রিস, ফন ডাইক, ফন হেকে, ফন ডে ভেন; ডি ইয়ং, রেইন্ডার্স, গ্রাভেনবার্খ; মালেন, ব্রবি, গাকপো।