ট্রাম্পের দাবি: ‘সব ইহুদিই নেতানিয়াহুর ওপর বিরক্ত’

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ্য করে একটি বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি নেতানিয়াহুকে সরাসরি বলেছেন যে, “সব ইহুদিই তোমার ওপর বিরক্ত।” এই মন্তব্যটি আন্তর্জাতিক মহলে এবং বিশেষ করে ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ট্রাম্পের এই ধরনের মন্তব্য নতুন নয়। ইসরায়েল এবং ইহুদি সম্প্রদায় নিয়ে তার পূর্ববর্তী অনেক মন্তব্যই বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তবে, সরাসরি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি এমন কঠোর ভাষা প্রয়োগ তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের পাশাপাশি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এক ধরনের টানাপোড়েন নির্দেশ করে। যদিও এই মন্তব্যের সুনির্দিষ্ট প্রেক্ষাপট বা এটি কখন এবং কোন পরিস্থিতিতে করা হয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে জানানো হয়নি, তবে এর গভীর তাৎপর্য রয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন সময়ে ইসরায়েলের প্রতি অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ নীতি গ্রহণ করেছিলেন। জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর এবং গোলান মালভূমিকে ইসরায়েলের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার মতো পদক্ষেপগুলো ইসরায়েলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিল। তিনি প্রায়শই দাবি করতেন যে, তার প্রশাসন ইসরায়েলের জন্য অন্য যেকোনো মার্কিন প্রশাসনের চেয়ে বেশি কিছু করেছে।

তবে, ট্রাম্প প্রায়শই অভিযোগ করতেন যে, মার্কিন ইহুদিরা ইসরায়েলের প্রতি তার সমর্থনকে যথেষ্ট মূল্যায়ন করে না। তিনি মনে করতেন, ইসরায়েলের প্রতি তার নীতি সত্ত্বেও মার্কিন ইহুদি ভোটাররা ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন করে। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি হয়তো নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব বা তার নীতির প্রতি ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে অসন্তোষের একটি চিত্র তুলে ধরতে চেয়েছেন।

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, যিনি দীর্ঘকাল ধরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তিনিও তার রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্য নেতানিয়াহুর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে। এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের মন্তব্য সাধারণত দুই দেশের সম্পর্ক এবং সংশ্লিষ্ট নেতাদের ভাবমূর্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।