প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর: মালয়েশিয়া ও চীন

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় পূর্ণ করতে যাচ্ছেন। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দেশের একাদশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন তিনি। আর সরকারপ্রধান হিসেবে আজ রোববার তিনি প্রথম বিদেশ সফরে যাচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে তার দীর্ঘ ৩৮ বছরের রাজনৈতিক কর্মজীবন এক নতুন মাত্রায় উন্নীত হতে চলেছে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বিকেলে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন। এরপর আগামীকাল সোমবার বিকেলে তিনি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে চীন সফরে যাবেন। তার এই মালয়েশিয়া সফরে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শ্রমবাজারে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়গুলো বিশেষভাবে গুরুত্ব পাবে। প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে দুটি সমঝোতা স্মারক (MoU) এবং দুটি ‘নোট অব এক্সচেঞ্জ’ স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আজ বেলা ২টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানের ফ্লাইট বিজি ৩৮৬-এ কুয়ালালামপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন এবং স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

মালয়েশিয়া সফর ঘিরে আগ্রহ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত এই সফরে দুই দেশের (২১ ও ২২ জুন) মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদারের বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সফরের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হবে। পরদিন পুত্রাজায়ায় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একান্ত বৈঠক (টেট-আ-টেট) অনুষ্ঠিত হবে। এরপর উভয় দেশের প্রতিনিধিদল নিয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি আসিয়ানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা আরও জোরদারের বিষয়টিও আলোচনায় থাকতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, মালয়েশিয়ায় বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত থাকায় শ্রম অভিবাসন, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং কর্মীদের কল্যাণ সফরের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হতে পারে। বিভিন্ন অভিবাসী অধিকার সংগঠনও শ্রমিক নিয়োগ ব্যবস্থার সংস্কার, অবৈধ দালালচক্র নিয়ন্ত্রণ এবং বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছে।

এই সফরকে বাংলাদেশের নতুন সরকারের কূটনৈতিক অগ্রাধিকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়া নির্বাচন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার ইঙ্গিত বহন করে।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও নতুন উদ্যোগের সম্ভাবনা রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি, উৎপাদন শিল্প, অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং হালাল অর্থনীতিসহ বিভিন্ন খাতে যৌথ সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট মহলের আশা, এই সফরের মাধ্যমে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগে উৎসাহিত করা সম্ভব হবে।

মালয়েশিয়া প্রবাসীদের প্রত্যাশা

তার এই সফরকে ঘিরে মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা আশায় বুক বেঁধেছেন। রাজধানী কুয়ালালামপুরসহ দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রায় ১২ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি তারেক রহমানের এই সফরকে তাদের জন্য এক বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন। এর মধ্যে লক্ষাধিক মানুষ বিভিন্ন কারণে অনিয়মিত অবস্থায় রয়েছেন। কেউ নিয়োগকর্তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন, আবার কেউবা কর্মসংস্থানের সংকটে বৈধ অবস্থান হারিয়েছেন। তাঁরা সবাই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। প্রবাসীদের আশা, এই সফরের মাধ্যমে শ্রমবাজার পুনরায় চালু, সিন্ডিকেটমুক্ত কলিং ভিসা, অনিয়মিত কর্মীদের বৈধতার সুযোগ এবং দূতাবাস সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশিদের প্রধান দাবির মধ্যে শীর্ষে রয়েছে স্বচ্ছ ও সিন্ডিকেটমুক্ত কর্মী নিয়োগ ব্যবস্থা।

মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও এই সফরকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। তাঁরা উচ্চশিক্ষা, গবেষণা সহযোগিতা, শিক্ষার্থী বিনিময় এবং স্কলারশিপ বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ব্যবসায়ী মহল আশা করছে, সফরের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন গতি আসবে। হালাল শিল্প, প্রযুক্তি, কৃষি ও উৎপাদন খাতে যৌথ উদ্যোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ সফর শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংযোগ আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। একই সঙ্গে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সফর শেষে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতা বা যৌথ ঘোষণা আসার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।

সার্বিকভাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরকে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে শ্রমবাজার পুনরুজ্জীবন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারের ক্ষেত্রে সফরটি বাস্তবসম্মত অগ্রগতি বয়ে আনবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছে। বিশেষ করে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রবেশাধিকারের সম্প্রসারণ, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করার বিষয়ে বাংলাদেশ ইতিবাচক অগ্রগতি প্রত্যাশা করছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকরা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।

প্রধানমন্ত্রীর খসড়া কর্মসূচি

খসড়া কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া পৌঁছানোর পর মালয়েশিয়ার সরকারের পক্ষ থেকে তাকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হবে। পরে তিনি রাজধানীর শাংগ্রি-লা হোটেলে অবস্থান করবেন। সফরের দ্বিতীয় দিন ২২ জুন পুত্রাজায়ার পারদানা পুত্রায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক স্বাগত অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। গার্ড অব অনারের পর দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে সীমিত পরিসরের বৈঠক এবং পরে প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

এদিন উভয় দেশের উপস্থিতিতে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক ও একটি নোট বিনিময়ের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাথমিক আলোচনায় সাংস্কৃতিক সহযোগিতা এবং সন্ত্রাস দমন-সংক্রান্ত সহযোগিতার বিষয়ে দলিল বিনিময়ের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এরপর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন।

সরকারি কর্মসূচিতে আরও রয়েছে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত আনুষ্ঠানিক মধ্যাহ্নভোজে অংশগ্রহণ। একই দিনে মালয়েশিয়ার রাজার সঙ্গে সম্ভাব্য সৌজন্য সাক্ষাতের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে, যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সময়সূচি এখনও নির্ধারিত হয়নি।

এ ছাড়া এমএমসি পোর্টস, এয়ারএশিয়া এবং পেট্রোনাস গ্রুপের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

চীন সফর ও বৈশ্বিক ফোরামে অংশগ্রহণ

দুই দিনের মালয়েশিয়া সফর শেষে ২২ জুন বিকেলে কুয়ালালামপুর থেকে বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে চীনের দালিয়ানের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। বাংলাদেশের মানুষ মালয়েশিয়ার পাশাপাশি তারেক রহমানের চীন সফরের দিকেও খুব আগ্রহ সহকারে চোখ রাখছেন। প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর উপলক্ষে গতকাল শনিবার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। তিনি জানান, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), দুটি চুক্তি, একটি অ্যাকশন প্ল্যান এবং একটি প্রটোকলসহ মোট ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে বহুল আলোচিত তিস্তা প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হবে। পররাষ্ট্র সচিব আরও জানান, মালয়েশিয়া ও চীন সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদল তুলনামূলকভাবে ছোট রাখা হয়েছে, যার সদস্য সংখ্যা ২৭ থেকে ২৮ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

আগামী ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। এছাড়া ২৬ জুন তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। চীন সফরকালে প্রধানমন্ত্রী লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ানে ২৩ থেকে ২৫ জুন অনুষ্ঠেয় ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’-এর ১৭তম বার্ষিক সম্মেলনে (সামার দাভোস ফোরাম) অংশ নেবেন। ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত এ ফোরামে ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের ১ হাজার ৭০০-এর বেশি প্রতিনিধি অংশ নেবেন। সেখানে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবণতা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং উদ্ভাবননির্ভর প্রবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হবে। প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার রাতে দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক জীবনের নতুন দিগন্ত

প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়ায় আসার সিদ্ধান্ত নিয়ে তারেক রহমান এক নতুন দিগন্তের সূচনা করতে যাচ্ছেন। বিশ্ব ও আঞ্চলিক রাজনীতির নানা হিসাব-নিকাশ চিন্তা করেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাজনৈতিক জীবনে নানা চড়াই-উৎরাইয়ের মধ্য দিয়ে যাওয়া তারেক রহমানের এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশকে একটি নির্দিষ্ট বলয়ের বাইরে যেতে নিয়ামক ভূমিকা পালন করবে।

উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ার সঙ্গে তারেক রহমানের এক আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। তার একমাত্র ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকো ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ায় নির্বাসিত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দেখানো পথ অনুসরণ করে সেই মালয়েশিয়াতেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের বাইরে প্রথম পা রাখছেন তারেক রহমান।

১৯৮৮ সালে পৈতৃক নিবাস বগুড়ার গাবতলী থানা বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির রাজনীতিতে নাম লেখান। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর ২০০২ সালে তিনি দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন। এরই ধারাবাহিকতায় দলের কাউন্সিল অধিবেশনের মধ্য দিয়ে ২০০৯ সালে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক দক্ষতা এবং কৌশলের কারণে তাকে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ অপপ্রচারের টার্গেটে পরিণত করে। বরাবরই তাঁর বিরুদ্ধে চলতে থাকে সীমাহীন মিথ্যাচার এবং অপপ্রচার।

এক-এগারোর সময় ২০০৭ সালের ৭ মার্চ তারেক রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। প্রায় ১৮ মাস কারাবরণের পর ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান। এরপর লন্ডনে তাঁকে দীর্ঘ ১৮ বছর নির্বাসিত জীবন পার করতে হয়েছে। বিদেশে ১৭ বছর ৩ মাস ১৩ দিন নির্বাসিত জীবন শেষে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর গত ৯ জানুয়ারি দলের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তারেক রহমান।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। ১৭ ফেব্রুয়ারি দেশের একাদশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। সরকারপ্রধান হিসেবে চার মাস দায়িত্ব পালনের পর ২১ জুন তিনি প্রথমবারের মতো দেশের বাইরে পা রাখছেন। আর তাঁর এই ঐতিহাসিক সফরে সঙ্গী হিসেবে থাকতে পারেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত কুয়ালালামপুরও। গতকাল শনিবার বিকেলে একপশলা বৃষ্টি হয়েছে। মালয়েশিয়ার আবহাওয়াও যেন বলছে, ‘স্বাগত, তারেক রহমান!’