রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন, দেশে ফিরলেন স্পিকার

রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বঙ্গভবন সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। বঙ্গভবনের একাধিক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন যে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছেন এবং তার পদত্যাগপত্রটিও প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত তিনি এতে স্বাক্ষর করেননি। স্পিকার দেশে না থাকায় পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াটি আপাতত বিলম্বিত ছিল।

বঙ্গভবনে দায়িত্ব পালনকারী একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি দুদিন আগেই ইঙ্গিত দিয়ে বলেছিলেন, তাকে চলে যেতে বলা হয়েছে এবং চলতি মাসের মধ্যেই বঙ্গভবন খালি করে যার যার মতো চলে যেতে হবে। তবে ‘ওরা’ বলতে তিনি কাদের বুঝিয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি ওই কর্মকর্তা।

এদিকে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আলোচনার মধ্যেই চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে থাকা জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তার পূর্বনির্ধারিত সময়ের দুদিন আগেই শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুরে দেশে ফিরেছেন। স্পিকারের এই আগাম প্রত্যাবর্তন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জনকে আরও জোরালো করে তুলেছে। নিয়মানুযায়ী, রাষ্ট্রপতিকে তার পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছেই জমা দিতে হয়।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, তিনি এক সপ্তাহ বিদেশে ছিলেন এবং এ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। তিনি বলেন, আপনারা যেমন শুনেছেন, আমিও তেমনই শুনেছি। দেশে ফিরে তিনি এখন পরিস্থিতি সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন বলে জানান।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে জাতীয় সংসদ ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদের দায়িত্ব পালন করবেন। উল্লেখ্য, মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং তার মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত। তিনি একমাত্র রাষ্ট্রপতি যিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করিয়েছেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত