জুলাইয়ের শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের পাশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক আবেগঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো জুলাই জাতীয় সম্মেলন। ২০২৪ সালের জুলাই বাংলাদেশের ইতিহাসে এক রক্তাক্ত অধ্যায়। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে সন্তান হারানো মা, বাবা, ভাই এবং আহত যোদ্ধাদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন। জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি ও আমরা জুলাই যোদ্ধা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনের পর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ১৬ বছরের আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভুক্তভোগী পরিবারগুলো তাদের দীর্ঘদিনের না-বলা কষ্ট ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে ‘জুলাই স্মৃতি স্মারক’ তুলে দেন। স্মারক গ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন শহীদ মিরাজের বাবা আব্দুল রব মিয়া, শহীদ সেলিমের ভাই উজ্জ্বল হোসেন, আহত জুলাই যোদ্ধা আল মিরাজ এবং আমিনুল ইসলাম ঈমন। শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকেও প্রধানমন্ত্রীকে একটি স্মৃতি স্মারক উপহার দেওয়া হয়। জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে এই সম্মেলনে সরকারের মন্ত্রী, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, সামরিক-বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্য রাখতে গিয়ে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। শহীদ আলভীর বাবা আবুল হাসান বলেন, ‘আমার ছেলে আগস্টের ৪ তারিখ মিরপুরে মারা যায়।’ শহীদ মিরাজের বাবা আব্দুল রব মিয়া বলেন, ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পুলিশ তার ছেলের বুক গুলিতে ঝাঁঝরা করে দিয়েছিল। তিনি প্রতিটি জুলাই যোদ্ধা হত্যার বিচার দাবি করেন। চট্টগ্রামের শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম আহত যোদ্ধাদের পুনর্বাসনের আকুতি জানান। আবু সাঈদের ভাই আবু হোসেন তার ভাইয়ের লড়াইয়ের কথা স্মরণ করে স্মৃতি সংরক্ষণের দাবি তোলেন এবং শহীদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমাতুজ জোহরা লন্ডনে অবস্থানকালে তারেক রহমানের সহায়তা পাওয়ার কথা কৃতজ্ঞতার সাথে উল্লেখ করেন।

আহত যোদ্ধারা তাদের যন্ত্রণার কথা তুলে ধরে চিকিৎসার দাবি জানান। দুই পা হারানো শাহীন মালু বলেন, ‘গত ১৭ বছর জিয়া পরিবার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জুলাই যোদ্ধাদের হত্যার বিচার যেনো দ্রুত সম্পন্ন হয়।’ আহত মিল্লাত হোসেন ও সুজন মোল্লা জানান, তারা ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের লক্ষ্যেই রাজপথে নেমেছিলেন এবং বর্তমান সরকারের কাছে তাদের প্রত্যাশা অনেক। আহত আলামিন তার চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। মঞ্চের ব্যানারে লেখা, ‘গর্বিত ইতিহাস, অদম্য চেতনা; ৪ জুলাইয়ের এই দিন হোক সবার অনুপ্রেরণা; যে আত্মত্যাগ ইতিহাসকে বদলে দিয়েছে।’ সরকারি গেজেট অনুযায়ী জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা ৮৩৪ জন হলেও জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারেন।