উত্তাল পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীর: ব্যাপক বিক্ষোভে উত্তাল জনপদ

পাকিস্তান-শাসিত জম্মু ও কাশ্মীরে (পিওকে) পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। গত রোববার (৫ জুলাই) জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) আহ্বানে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। মূলত জেএএসি-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শওকত নওয়াজ মীরসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে এবং তাদের দ্রুত মুক্তির দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থান সত্ত্বেও পিওকের বিভিন্ন শহর ও জনপদে সাধারণ মানুষের ঢল নেমেছে। জেএএসি-এর তথ্যমতে, আব্বাসপুরের সর্দার গুলাম হুসেইন খান স্পোর্টস স্টেডিয়ামে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিলেন, যেখানে নারী, শিশু ও প্রবীণরাও অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া রাওয়ালাকোট ও চাক এলাকার নারীরাও শান্তিপূর্ণ মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সংগঠনটির দাবি, এই আন্দোলন এখন সব বয়স ও শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণে একটি পূর্ণাঙ্গ গণআন্দোলনে রূপ নিয়েছে।

আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, দুদিয়ালের এএমবি এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি ও গোলাবর্ষণ করেছে, যাতে কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। জেএএসি-এর অভিযোগ, শওকত নওয়াজ মীরকে আটকের পর শত শত কর্মী-সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাদের ওপর নজরদারি ও দমন-পীড়নের কথা উঠে এসেছে। জেএএসি-এর কেন্দ্রীয় সদস্য সর্দার আমান খান জানিয়েছেন, বর্তমানে আন্দোলনকারীদের এলাকায় খাদ্য ও ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি মেনধার, পুঞ্চ, রাজৌরি ও দোদার মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।

বিক্ষোভের অংশ হিসেবে জেএএসি স্থানীয় সরকার নির্বাচন বয়কটের ডাক দিয়েছে। আন্দোলনের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে সর্দার আমান খান সমর্থকদের উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেন, তারা যুদ্ধবিরতি রেখার দিকে এগিয়ে যাবেন কি না। উপস্থিত জনতা এর পক্ষে দৃঢ় সাড়া দেন। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, যদি আন্দোলনের জবাব গুলির মাধ্যমে দেওয়া হয়, তবে তাদের কাছেও বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে।

পিওকের বাইরে বসবাসকারী কাশ্মীরি প্রবাসীরাও এই আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। নিউজিল্যান্ডসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশে প্রবাসী কাশ্মীরিরা সমাবেশ করেছেন। জেএএসি বিক্ষোভকারীদের সাদা পতাকা হাতে শৃঙ্খলা বজায় রেখে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাদের দাবির যৌক্তিকতা বুঝতে পারে। সংগঠনটির লক্ষ্য ছিল প্রতিটি জেলা থেকে ৫০ হাজার করে মোট পাঁচ লাখ মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করা।