রাজশাহীতে তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়ন বিষয়ক কর্মশালা: সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বারোপ

সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা বৃদ্ধি, জনগণের তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাজশাহীতে ‘তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯’ বাস্তবায়ন বিষয়ক একটি বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আয়োজনে আজ বুধবার, ১০ জুন সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মশালায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) মিজ ফারাহ্ শাহ্ঙ্খী ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ খালেদ হাসান।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব ড. মোহাম্মদ আশরাফুল আলম। তিনি তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর পটভূমি, উদ্দেশ্য এবং নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় এর গুরুত্ব তুলে ধরেন। ড. আশরাফুল আলম বলেন, তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অপরিহার্য উপাদান। এই আইন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে জনগণের অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মুহাম্মদ সাদিকুর রহমান। তিনি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে আইনের বিভিন্ন ধারা, উপধারা ও বাস্তব প্রয়োগের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রশাসনে অনিয়ম বা দুর্নীতি ঘটলে তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে জনগণ সচেতন ও সোচ্চার হতে পারে। যেকোনো নাগরিক নির্ধারিত পদ্ধতিতে তথ্যের আবেদন করতে পারেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তথ্য দিতে বাধ্য। এটি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বাড়ায় ও দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক কাজী শহীদুল ইসলাম বলেন, তথ্য অধিকার আইন নাগরিক ও প্রশাসনের মধ্যে মজবুত সেতুবন্ধ তৈরি করেছে। সরকারি সেবা বিঘ্নহীন করতে এবং প্রশাসনকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব করতে এই আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও বলেন, তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ যত বাড়বে, প্রশাসনের প্রতি জনগণের আস্থা তত বৃদ্ধি পাবে এবং সুশাসনের ভিত্তি শক্তিশালী হবে। তাই সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে এই আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে হবে।

দিনব্যাপী এই কর্মশালায় আরও বক্তব্য রাখেন রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এসআইএম রাজিউল করিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) বেলায়েত হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সাবিনা ইয়াসমিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন, রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইদুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন।

বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, তথ্য অধিকার আইনের সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল ও জনমুখী হবে। একই সঙ্গে নাগরিকদের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত হলে সমাজে দুর্নীতি প্রতিরোধে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এক ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা অংশ নেন।