শৈলকুপায় দুই বিএনপি গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ৬৫ জন আহত

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামে বিএনপির দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত ৬৫ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল সাড়ে আটটার দিকে সামাজিক দল গঠন এবং আওয়ামী লীগের কর্মীদের নিজেদের দলে ভেড়ানোকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে বিএনপি নেতা মতিয়ার রহমান সমর্থিত বেষ্টপুর গ্রামের মিরাজ জোয়ার্দার, আবু তালেব, উল্লাস, ইমরান, শাহিন মন্ডল, ফজলুর রহমান ও সেলিম আহত হন। একই গ্রামের কফিল মেম্বার সমর্থিত আহতদের মধ্যে রয়েছেন মো. লাল্টু বিশ্বাস, মো. আক্তার হোসেন, মো. খাইরুল ইসলাম, মফিজুল আলী, মোশারফ হোসেন, আনিস মোল্লা, সাকিব, আব্দুল কাদের, মো. বিল্লাল হোসেন, অক্ষন, সাঞ্জু ও আবেদ আলী। বাকি আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ইউনুস আলী জানান, সামাজিক দল গঠন নিয়ে মতিয়ার ও কফিল উদ্দীনের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছিল। উভয় গ্রুপের মূল প্রতিযোগিতা ছিল নিজেদের দলে ‘ফ্যাসিবাদী’ আওয়ামী লীগের লোকজনকে অন্তর্ভুক্ত করা। এর জের ধরেই মূলত গ্রামটিতে সামাজিক দলগুলো ভেঙে যায়।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে বিষ্ণুপুর গ্রামের একটি চায়ের দোকানে বাকি খাওয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এরপর বিএনপির দুই গ্রুপের পক্ষে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মীরাও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় অন্তত ১৫টি বাড়িঘরে ব্যাপক হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে মতিয়ার রহমান সমর্থিতরা ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে এবং কফিল মেম্বরের সমর্থকরা শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি হয়েছেন। শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক রাশেদ আল মামুন জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে ১৭ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, সামাজিক বিরোধের জেরেই এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, তবে এখনো কোনো পক্ষই মামলা দায়ের করেনি। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিল্লাল হোসেন দুপুরে জানান, আহতরা বর্তমানে চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এখনো থানায় কোনো মামলা হয়নি। তিনি ধারণা করছেন, বিকেল বা রাতের মধ্যে ভুক্তভোগী পক্ষ থেকে মামলা হতে পারে।