শিবগঞ্জে গৃহকর্মী নয়নী হত্যাকাণ্ডের ৭ দিন পর মামলা, গ্রেপ্তার ১

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে গৃহকর্মী নয়নী খাতুন হত্যাকাণ্ডের সাত দিন পর অবশেষে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি নোমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং মঙ্গলবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, সোমবার রাতে শিবগঞ্জ থানায় নিহত নয়নীর আত্মীয় আকলিমা বেগম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

গ্রেপ্তারকৃত নোমান শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট ইউনিয়নের মোহনবাগ এলাকার রইসউদ্দিনের নাতি এবং সুমনের ছেলে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নয়নী খাতুন নোমানের নানা রইসউদ্দিনের বাড়িতে গৃহপরিচারিকা হিসেবে কাজ করতেন। একপর্যায়ে নোমান তার ওপর কু-নজর দিয়ে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে নয়নীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

ঘটনাটি নোমানের বাড়ির লোকজনসহ অন্যান্য আসামিরা জানতে পারলে তারা সকলে মিলে নয়নীর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। একপর্যায়ে গত ১ জুন সোমবার বিকেলে তারা নয়নীকে হত্যা করে। এরপর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালানোর জন্য তাদের বাড়ির দোতলায় একটি সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেয় এবং পরে নামিয়ে রাখে। সেদিন রাত ১১টার দিকে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহত নয়নীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে দূর্লভপুর শেরপুর ভান্ডার-বিজিপাড়া এলাকায় তার মরদেহ দাফন করা হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে যে, আসামিরা নয়নীকে হত্যা করে নাটকীয়ভাবে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছিল। শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান এই বিষয়ে জানান, মোহনবাগ এলাকার রইসউদ্দিনের বাড়ি থেকে নোমানকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। দূর্লভপুর ইউনিয়নের শেরপুর ভান্ডার-বিজিপাড়া গ্রামের মোস্তাকের স্ত্রী আকলিমা বেগম বাদী হয়ে রইসউদ্দিন ও নোমানসহ মোট আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন।