অনশনের ২১তম দিনে হাসপাতালে ভর্তি সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দীর্ঘ অনশনরত প্রখ্যাত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অনশনের ২১তম দিনে তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটলে শনিবার (১৮ জুলাই) পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সোনম ওয়াংচুকের এই দীর্ঘ অনশন আন্দোলন ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিমধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

৫৯ বছর বয়সী ওয়াংচুক গত ২৮ জুন থেকে যুব সংগঠন 'ককরোচ জনতা পার্টি'র (সিজেপি) সমর্থনে এই অনশন শুরু করেছিলেন। গত মে মাসে মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষার (নিট-ইউজি) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় লাখ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ বিপন্ন হওয়ার অভিযোগে সিজেপি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছে।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী জরুরি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতেই তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার দিল্লি হাই কোর্ট এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার এবং প্রয়োজনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছিল। মূলত ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য দুর্বল হয়ে পড়ায় তাকে জোরপূর্বক খাওয়ানোর অনুরোধ জানিয়ে ওই আবেদন করা হয়েছিল।

প্রতিবাদস্থলের একটি মঞ্চে ম্যাট্রেসের ওপর শুয়েই এই আন্দোলনের মূল কেন্দ্রে ছিলেন ওয়াংচুক। সেখানে সমর্থক ও দর্শনার্থীরা নিয়মিত যাতায়াত করতেন। এদিকে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে আগামী ২০ জুলাই ভারতের পার্লামেন্ট অভিমুখে পদযাত্রার ডাক দিয়েছে সিজেপি। ওই দিন থেকেই পার্লামেন্টের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে গত বছর লাদাখে এক সহিংস আন্দোলনের সময় উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে ওয়াংচুককে অভিযুক্ত করেছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার। প্রায় ছয় মাস কারাভোগের পর চলতি বছরের মার্চ মাসে তিনি মুক্তি পান। তবে সরকার সব অভিযোগ অস্বীকার করে ওয়াংচুক বলেছিলেন, ওই সহিংসতা ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি স্থানীয় মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। অনশনের তৃতীয় দিনে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি বলেছিলেন, তার এই অনশন ছয় সপ্তাহ চলবে, যদি না তার আগেই তার মৃত্যু হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন যে গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের কষ্ট বুঝবে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।