বাংলাদেশে ব্যাংকিং সেবার পরিধি ধারাবাহিকভাবে বিস্তৃত হওয়ার ফলে দেশে মোট ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা এখন ১৯ কোটি ৩২ লাখে পৌঁছেছে। দেশের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতের ওপর আস্থা ও নির্ভরতা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই মূলত ব্যাংক হিসাবের এই বড় সংখ্যা অর্জিত হয়েছে। ব্যাংকিং খাতে এই ঊর্ধ্বগতি দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির একটি স্পষ্ট প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দেশের আর্থিক খাত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবার প্রসার এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মতো আধুনিক ও সহজলভ্য সেবাসমূহের ব্যাপক বিস্তারের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাংক হিসাব খোলার প্রবণতা অভাবনীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এক সময় প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকলেও বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার কল্যাণে তারা এখন খুব সহজেই মূলধারার ব্যাংকিং সেবার আওতায় আসতে পারছেন।
এই বিশাল সংখ্যক ব্যাংক হিসাব দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসারে ও গতিশীলতা আনয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি মানুষের সঞ্চয় করার প্রবণতা এবং আনুষ্ঠানিক লেনদেনের হারও বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে। বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯ কোটি ৩২ লাখ ব্যাংক হিসাব দেশের আর্থিক খাতের একটি শক্তিশালী অবস্থানের জানান দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
