ভোটার তালিকা হস্তান্তরে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচেষ্টায় আদালতের বাধা

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নির্বাচনে ফেডারেল নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তা মার্কিন আদালতগুলোতে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। বিচার বিভাগ কর্তৃক অঙ্গরাজ্যগুলোর ভোটার তালিকা সংগ্রহের ১৬টি ফেডারেল মামলার সবকটিতেই সরকার পক্ষ পরাজিত হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগে ভোটারদের নাম, ঠিকানা, জন্মতারিখ, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরের মতো ব্যক্তিগত তথ্যের দাবি জানানো হয়েছিল, যাকে স্থানীয় কর্মকর্তারা একটি 'ব্যাপক নজরদারি টুল' হিসেবে অভিহিত করেছেন।

এই আইনি লড়াইয়ে শুধু ডেমোক্র্যাটরাই নয়, আইডাহো, কেন্টাকি, ইউটাহ এবং ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার মতো রিপাবলিকান শাসিত অঙ্গরাজ্যগুলোর কর্মকর্তারাও ফেডারেল সরকারের এই চাহিদার বিরোধিতা করেছেন। মজার বিষয় হলো, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে রায় দেওয়া ১৫ জন ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট বিচারকের মধ্যে সাতজনই ট্রাম্পের নিজের নিয়োগকৃত। আদালতের এই সর্বসম্মত রায়ের মূল ভিত্তি হলো, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব অঙ্গরাজ্যগুলোর, ফেডারেল সরকারের নয়।

ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে যে, অনাগরিকদের ভোটদান প্রতিরোধ করার জন্য এই তালিকাগুলো যাচাই করা জরুরি। তবে বিচারক, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ এবং এমনকি রিপাবলিকান অঙ্গরাজ্য কর্মকর্তারাও অনাগরিকদের ভোটদানের অভিযোগকে 'ভিত্তিহীন' এবং 'সিস্টেমিক কোনো সমস্যা নয়' বলে নাকচ করে দিয়েছেন। লয়োললা ল স্কুলের অধ্যাপক জাস্টিন লেভিট বলেন, ভোটার তালিকা পরিষ্কার করার কোনো ক্ষমতা বিচার বিভাগের নেই এবং আদালত সরকারের এই দাবি মেনে নেয়নি।

বিচার বিভাগ তাদের এই প্রচেষ্টাকে ১৯৬০ সালের সিভিল রাইটস অ্যাক্ট, ২০০২ সালের হেল্প আমেরিকা ভোট অ্যাক্ট এবং ১৯৯৩ সালের ন্যাশনাল ভোটার রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টের আলোকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিচার বিভাগের সিভিল রাইটস ডিভিশনের প্রধান হারমিত ধিলন জানিয়েছেন, তারা এই আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং প্রয়োজনে আপিল করবেন। তবে লস অ্যাঞ্জেলেসের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ ডেভিড কার্টার তার রায়ে স্পষ্ট বলেছেন যে, ফেডারেল সরকারের এই অনুরোধ অভূতপূর্ব এবং বেআইনি।

বর্তমানে বেশ কিছু মামলা আপিল পর্যায়ে রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটিকে জানিয়েছেন যে, কিছু বিচারক তাদের অবস্থানের পক্ষে রায় দিয়েছেন। অন্যদিকে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ দাবি করেছে যে, চারটি অঙ্গরাজ্যে আড়াই লাখ অনাগরিক ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে, যদিও এই তথ্যের উৎস বা প্রমাণ তারা এখনো স্পষ্ট করেনি। এমতাবস্থায়, ৩ নভেম্বর কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার তালিকা নিয়ে এই আইনি টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত