জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে শেষ হলো টুরাগ অ্যাক্টিভ ৬ষ্ঠ জাতীয় স্কোয়াশ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬

ঢাকার আর্মি স্কোয়াশ কমপ্লেক্সে এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে “টুরাগ অ্যাক্টিভ ৬ষ্ঠ জাতীয় স্কোয়াশ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬” এর পর্দা নেমেছে। বাংলাদেশ স্কোয়াশ ফেডারেশনের তত্ত্বাবধানে এবং টুরাগ অ্যাক্টিভ–উর্মী গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এই চার দিনব্যাপী প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব গত শনিবার (১৩ জুন) সম্পন্ন হয়।

অংশগ্রহণ ও বিভাগসমূহ

এবারের চ্যাম্পিয়নশিপে দেশের ২৮টি জেলার ৩০টি ক্লাব ও প্রতিষ্ঠানের শতাধিক খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে ৭৯ জন পুরুষ এবং ২৪ জন নারী খেলোয়াড় ছিলেন। প্রতিযোগিতাটি মোট নয়টি ভিন্ন বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়, যার মধ্যে ছিল উন্মুক্ত পুরুষ ও নারী বিভাগ, সৌখিন ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বিভাগ, এবং অনূর্ধ্ব–১১, অনূর্ধ্ব–১৩ ও অনূর্ধ্ব–১৫ বয়সভিত্তিক বিভাগসমূহ।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনদের উপস্থিতি

জমকালো সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উর্মী গ্রুপের পরিচালক ফাইয়াজ রহমান। বাংলাদেশ স্কোয়াশ ফেডারেশনের সভাপতি মেজর জেনারেল মো. হাসান উজ জামান এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

এছাড়াও, ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জি এম কামরুল ইসলাম, উন্নয়ন কমিটির প্রধান মেজর শফিউল্লাহ মাস্তান, উর্মী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের উপদেষ্টা এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) বদরুল আমিন এবং টুরাগ অ্যাক্টিভের সিওও আহম্মদ মনসুর রউফসহ ফেডারেশন ও উর্মী গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড় ও তাদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তাদের গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য

প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক স্কোয়াশ খেলার উন্নয়নে ধারাবাহিক জাতীয় প্রতিযোগিতা, তৃণমূল পর্যায়ে খেলোয়াড় তৈরি এবং বেসরকারি খাতের পৃষ্ঠপোষকতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের ফলে স্কোয়াশে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান যে, খেলাধুলার সার্বিক উন্নয়নে সরকার সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত এবং একটি ক্রীড়াবান্ধব সমাজ গঠনে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

ফাইয়াজ রহমান, উর্মী গ্রুপ

উর্মী গ্রুপের পরিচালক ফাইয়াজ রহমান তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে স্কোয়াশের প্রতি আগ্রহ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বিশ্বাস করেন যে, নিয়মিত জাতীয় পর্যায়ের আয়োজন নতুন খেলোয়াড়দের নিজেদের প্রতিভা প্রদর্শনের সুযোগ করে দিচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ক্রীড়া উদ্যোগে উর্মী গ্রুপ পাশে থাকবে বলেও তিনি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

মেজর জেনারেল মো. হাসান উজ জামান, ফেডারেশন সভাপতি

ফেডারেশনের সভাপতি মেজর জেনারেল মো. হাসান উজ জামান বলেন, সীমিত অবকাঠামো এবং কোর্টের অপ্রতুলতা সত্ত্বেও সুপরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে স্কোয়াশের ভিত্তি মজবুত হয়েছে। তিনি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জন, নারী খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্কোয়াশ খেলার প্রসারে কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

স্কোয়াশ ইতিহাসে নতুন মাইলফলক

আয়োজকরা জানান, এবারের আসরটি রেকর্ড সংখ্যক খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণ, তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ এবং সফল আয়োজনের কারণে দেশের স্কোয়াশ ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।