উচ্চশিক্ষাকে দক্ষতানির্ভর ও কর্মমুখী করতে নতুন শিক্ষাকাঠামোর উদ্যোগ

সরকার দেশের উচ্চশিক্ষাকে আরও আধুনিক, দক্ষতানির্ভর এবং কর্মমুখী করে তোলার লক্ষ্যে একটি নতুন শিক্ষাকাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই তথ্য জানিয়েছেন। প্রস্তাবিত এই কাঠামোতে প্রচলিত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক দক্ষতা, ইন্টার্নশিপ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং আচরণগত দক্ষতার (সফট স্কিল) ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

রবিবার ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ হাজার শিক্ষকের একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এই নতুন উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

তিনি জানান, প্রস্তাবিত এই রূপরেখায় শিক্ষাকে চারটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪০ শতাংশ একাডেমিক বা তাত্ত্বিক জ্ঞানের জন্য, ৩০ শতাংশ ব্যবহারিক ও পেশাগত দক্ষতার জন্য, ২০ শতাংশ ইন্টার্নশিপ, ফিল্ডওয়ার্ক ও প্রজেক্ট-ভিত্তিক শিক্ষার জন্য এবং অবশিষ্ট ১০ শতাংশ উদ্যোক্তা তৈরি, সফট স্কিল ও ক্যারিয়ার উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আমরা এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই যেখানে শুধু ডিগ্রি অর্জনই মূল লক্ষ্য হবে না, বরং দক্ষ ও যোগ্য মানবসম্পদ তৈরি হবে। এই উদ্দেশ্য সামনে রেখেই নতুন এই কাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে।”

ড. এহছানুল হক মিলন আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে একাডেমিক শিক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রের বাস্তব চাহিদার মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য ব্যবধান বিদ্যমান। এই ব্যবধান কমিয়ে আনতে ইন্টার্নশিপ, ফিল্ডওয়ার্ক এবং হাতে-কলমে শিক্ষার ওপর আরও বেশি জোর দেওয়া প্রয়োজন।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, সরকারের উদ্দেশ্য কেবল বিপুল সংখ্যক স্নাতক তৈরি করা নয়, বরং একটি দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা। এই লক্ষ্য অর্জনে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের (টিভিইটি) মানোন্নয়ন ও প্রসারে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে ৫৭টি সরকারি এবং ১১৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এসব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে আন্তঃসীমান্ত শিক্ষা, গবেষণায় পারস্পরিক সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক একাডেমিক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বিশ্বায়নের এই যুগে শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দেওয়ার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিশ্বমানের প্রতিযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

শিক্ষা জাতীয় উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি উল্লেখ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এসব পরিকল্পনা সঠিক ও আন্তরিকতার সাথে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশকে একটি দক্ষ, উদ্ভাবনী এবং জ্ঞানভিত্তিক জাতি হিসেবে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।