উখিয়ার পালংখালী সীমান্তে বিজিবি-আরএসও গোলাগুলি: জার্মান প্রযুক্তির রাইফেলসহ বিপুল অস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধার

কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমারের সশস্ত্র সংগঠন রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) একটি গোপন আস্তানায় সফল অভিযান পরিচালনা করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এই অভিযানে বিজিবি ও আরএসও সদস্যদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে এবং পরবর্তীতে সেখান থেকে জার্মান প্রযুক্তির একটি ব্যাটল রাইফেলসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিজিবির পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত বুধবার (৩ জুন) বিকেলে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের বাহারপাড়া সীমান্ত এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে আরএসও সদস্যরা তাদের আস্তানা থেকে গুলি ছুড়লে বিজিবিও পাল্টা গুলি চালায়। তীব্র গোলাগুলির মুখে টিকতে না পেরে আরএসও সদস্যরা তাদের আস্তানা ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে সেখান থেকে একটি স্বয়ংক্রিয় ব্যাটল রাইফেল, বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ এবং ৪ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

বিজিবি সূত্রমতে, উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) আওতাধীন পালংখালী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ বাহারপাড়া সীমান্ত পোস্ট থেকে প্রায় ২০০ মিটার দক্ষিণ-পূর্বে বেড়িবাঁধ সংলগ্ন নদীর পাড়ে গোলপাতার তৈরি একটি ছাউনিতে আরএসও সদস্যরা অবস্থান করছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সেদিন দুপুর আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল ওই স্থানে অভিযান শুরু করে।

টহল দলটি আস্তানাটি ঘিরে ফেলার চেষ্টা করলে ভেতরে থাকা ৫ থেকে ৬ জন আরএসও সদস্য বিজিবিকে লক্ষ্য করে ৩ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। নিজেদের আত্মরক্ষার্থে বিজিবির বিশেষ টহল দল সাব-মেশিন গান (এসএমজি) ব্যবহার করে পাল্টা ৫ রাউন্ড গুলি চালায়। উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির একপর্যায়ে আরএসও সদস্যরা তাদের অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদ এবং অন্যান্য সামগ্রী ফেলে রেখে দুর্গম সীমান্ত পথ ধরে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এই সংঘর্ষে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

পরবর্তীতে বিজিবি সদস্যরা ওই ছাউনিতে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে ১টি জার্মান প্রযুক্তির ‘কচ জি-৩’ (Koch G-3) ব্যাটল রাইফেল, ৩টি মেটাল ম্যাগাজিন, ৩টি ফাইবার ম্যাগাজিন, ৫১৫ রাউন্ড তাজা গুলি, ১টি ওয়াকিটকি সেট এবং ৪ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করে। এছাড়াও ঘটনাস্থল থেকে ২টি আরএসও মনোগ্রাম, একটি মোবাইল ফোন, একটি এয়ারটেল সিম কার্ড, কিছু পোশাক এবং নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়।

বিজিবির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, এই ঘটনার পর থেকে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে সমগ্র পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে বিজিবির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান আছে।