বিশ্বকাপের মঞ্চে ছোট দলের অদম্য তিন গোলরক্ষক

বিশ্বকাপের আড়ালে আলো ছড়ানো তিন নায়ক

চলমান বিশ্বকাপে তারকা গোলরক্ষকের অভাব নেই। ম্যানুয়েল নয়্যার, থিবো কোর্তোয়া, এমিলিয়ানো মার্তিনেজ বা আলিসন বেকারদের মতো নামগুলো আলোচনার প্রথম সারিতে থাকে। তবে তাদের ছায়ায় থেকে ‘ছোট’ দলের হয়ে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন তিনজন গোলরক্ষক—ভোজিনিয়া, এলয় রম ও আলীরেজা বেইরানভান্দ। ত্রিশোর্ধ্ব এই খেলোয়াড়রা নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়ে প্রমাণ করেছেন, বড় দলের জার্সি না থাকলেও বিশ্বমঞ্চে ছাপ রাখা সম্ভব।

ভোজিনিয়ার রূপকথা

কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল ২৫ বছর বয়সে। ১৯ বছরের দীর্ঘ পথচলায় তিনি খেলেছেন আঙ্গোলা, মলদোভা, সাইপ্রাস ও স্লোভাকিয়ার মতো দেশে। এবার বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে তিনি বিশ্বকে চমকে দিয়েছেন। ৪০ বছর ১২ দিন বয়সে তিনি নিজের দেশের হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামার রেকর্ড গড়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনে নানা লড়াইয়ের পাশাপাশি তার মা উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি সরাসরি মাঠে বসে দেখেছেন। তার ইনস্টাগ্রাম অনুসারী সংখ্যা ৪০ হাজার থেকে এক কোটিতে উন্নীত হয়েছে, যা তার জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেয়।

রেকর্ড গড়ে নজর কাড়লেন এলয় রম

কুরাসাওয়ের ৩৭ বছর বয়সী গোলরক্ষক এলয় রম ইকুয়েডরের বিপক্ষে এক ম্যাচে ১৬টি সেভ করে আলোচনায় এসেছেন। এটি ৯০ মিনিটের ম্যাচে বিশ্বকাপের ইতিহাসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। রমের মতে, সেই ম্যাচে তিনি এক অদ্ভুত আত্মবিশ্বাস অনুভব করছিলেন। তার ইনস্টাগ্রাম অনুসারী সংখ্যা মাত্র এক দিনে এক লাখ থেকে বেড়ে ১০ লাখে পৌঁছেছে, অথচ তার দেশ কুরাসাওয়ের মোট জনসংখ্যা মাত্র দেড় লাখ।

সংগ্রামী আলীরেজা বেইরানভান্দ

ইরানের বেইরানভান্দ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে সাতটি সেভ করে ম্যাচসেরা হয়েছেন। তার জীবন সংগ্রামের গল্পটি সিনেমার মতো। কিশোর বয়সে তেহরানে শূন্য হাতে এসে তিনি নাফত তেহরান ক্লাবের গেটে ঘুমাতেন এবং গাড়ি ধোয়া বা পিৎজার দোকানে কাজ করতেন। বর্তমানে তিনি দুটি গিনেস রেকর্ডের মালিক—গোলরক্ষকদের মধ্যে দীর্ঘতম থ্রো (৬১ মিটার) এবং দীর্ঘতম ড্রপকিক (৭৮ মিটার)। ২০১৮ বিশ্বকাপে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পেনাল্টি ঠেকিয়ে পরিচিতি পাওয়া এই গোলরক্ষক এবারের বিশ্বকাপে দুই ম্যাচে মাত্র দুটি গোল হজম করেছেন। ইরানি গণমাধ্যম তাকে নিয়ে যথাযথই মন্তব্য করেছে, তিনি যেন প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়ার ‘হুরমুজ প্রণালি’।

ভোজিনিয়া, রম কিংবা বেইরানভান্দ—তাদের দলগুলো হয়তো বিশ্বকাপে অনেক দূর যাওয়ার দাবি রাখে না, কিন্তু তাদের ব্যক্তিগত বীরত্ব আর অদম্য পারফরম্যান্স তাদের বিশ্বকাপের নতুন তারকায় পরিণত করেছে।