বিশ্বকাপে উজবেকিস্তান: স্বপ্নপূরণের দীর্ঘ পথ

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান

দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষা, অসংখ্য হতাশা এবং বারবার স্বপ্নভঙ্গের পর অবশেষে ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে উজবেকিস্তান। মধ্য এশিয়ার এই দেশটি প্রথমবারের মতো ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসরে অংশ নিচ্ছে।

বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলার স্বপ্ন নিয়ে উজবেকিস্তান বহুবার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেও ব্যর্থ হয়েছে। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তাদের প্লে-অফে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল। এরপর ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ হাতছাড়া হয় কেবল গোল ব্যবধানের কারণে, এবং প্লে-অফেও তাদের ভাগ্য সহায় হয়নি। এমনকি ২০১৮ সালেও দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের ড্র তাদের বিশ্বকাপের টিকিট কেড়ে নেয়।

ঐতিহাসিক যোগ্যতা অর্জন

তবে এবার আর হতাশায় ডুবতে হয়নি উজবেকিস্তানকে। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৩২ থেকে বেড়ে ৪৮ হওয়ায় এশিয়া মহাদেশ আটটি সরাসরি কোটা পেয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে উজবেকিস্তান নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় রচনা করেছে।

এশিয়ান বাছাইপর্বে অসাধারণ পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে তারা নিজেদের গ্রুপের শীর্ষ দুইয়ে স্থান নিশ্চিত করে। ২০২৫ সালের জুনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করার মাধ্যমেই উজবেকিস্তান প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। এর ফলে তারা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী প্রথম মধ্য এশীয় দেশ হিসেবেও ইতিহাসে নিজেদের নাম লেখায়।

দলের শক্তি ও নেতৃত্ব

বর্তমান উজবেকিস্তান দলের মূল শক্তি হলো তাদের তরুণ ও প্রতিভাবান ফুটবলাররা। রোমার অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড এলদর শোমুরোদভ, উদীয়মান মিডফিল্ডার আব্বোসবেক ফয়জুল্লায়েভ এবং ইউরোপিয়ান ফুটবলে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ডিফেন্ডার আব্দুকোদির খুসানোভকে ঘিরে দেশটি নতুন স্বপ্ন বুনছে। দলটির কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইতালির বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ফাবিও কানাভারো।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব ও প্রথম ম্যাচ

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে উজবেকিস্তানকে পর্তুগাল, কলম্বিয়া এবং ডিআর কঙ্গোর মতো শক্তিশালী দলগুলোর সঙ্গে রাখা হয়েছে। এই কঠিন গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে কলম্বিয়ার বিপক্ষে ৩-১ গোলে হারলেও দলটি লড়াকু ফুটবল উপহার দিয়েছে। ওই ম্যাচেই আব্বোসবেক ফয়জুল্লায়েভ উজবেকিস্তানের হয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম গোলটি করে রেকর্ড গড়েন।

প্রথম ম্যাচে পরাজয় সত্ত্বেও উজবেকিস্তানের সামনে এখনো নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিশ্বকাপের এই নবাগত দলটি ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছে যে, তারা কেবল অংশগ্রহণ করতে আসেনি; বরং ফুটবলের এই বৃহৎ মঞ্চে নিজেদের সক্ষমতা প্রদর্শনেও তারা প্রস্তুত।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর বিশ্বকাপে পদার্পণ উজবেকিস্তানের জন্য কেবল একটি টুর্নামেন্ট নয়, এটি তাদের পুরো দেশের ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন এবং গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা।