গৌরীপুরে আর্জেন্টিনার জার্সির চাহিদা তুঙ্গে
বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে দেশজুড়ে যে উন্মাদনা চলছে, তার প্রভাব পড়েছে ময়মনসিংহের গৌরীপুরেও। শহরজুড়ে আর্জেন্টিনার পতাকা উড়ছে, সমর্থকের সংখ্যাও বাড়ছে। এই বাড়তি চাহিদা মেটাতে গিয়ে স্থানীয় দোকানিরা রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন।
শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও অনেক কাপড়ের দোকান বন্ধ থাকলেও জার্সির দোকানগুলোতে ছিল উপচেপড়া ভিড়। ক্রেতাদের এই বিপুল চাহিদা সামলাতে দোকানিদের বেগ পেতে হচ্ছে।
বিক্রেতাদের মুখে ভিন্ন চিত্র
পৌর শহরের নতুনবাজার মহল্লার বাবুল মিয়া জানান, বর্তমানে আর্জেন্টিনার জার্সির চাহিদা এতটাই বেশি যে, বিক্রি হওয়া ১০০টি জার্সির মধ্যে মাত্র ৬-৭টি ব্রাজিলের জার্সি বিক্রি হচ্ছে। ব্রাজিলের জার্সির চাহিদা প্রায় নেই বললেই চলে। তিনি আরও বলেন, ঈদের সময় যেখানে ৫০ হাজার টাকার কাপড় বিক্রি করে ৭-৮ হাজার টাকা লাভ হতো, সেখানে এখন ৫০ হাজার টাকার জার্সি বিক্রি করে ১২-১৫ হাজার টাকা লাভ হচ্ছে। তার ভাষায়, ‘একদিকে জার্সি আনছি, অন্যদিকে শেষ হয়ে যাচ্ছে।’
বাবুল মিয়া নিজেও আর্জেন্টিনার একজন একনিষ্ঠ ভক্ত। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনার একটি খেলাও মিস করেননি এবং যত কষ্টই হোক না কেন, প্রতিটি খেলা তিনি দেখেন।
পাশের দোকানের নাজমুল হকও একই কথা বলেন। তিনি জানান, এখন সবদিকেই শুধু আর্জেন্টিনা। অন্য দলের সমর্থক খুবই কম দেখা যাচ্ছে।
সমর্থকদের প্রত্যাশা
লামাপাড়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান, সাইদুল হক ও নেজামুল ইসলাম জানান, তারা পুরো শহর খুঁজেও ইরানের কোনো জার্সি পাননি, যা তাদের জন্য খুবই কষ্টের ছিল।
আর্জেন্টিনা সমর্থক সাইদুর রহমান লিটু জানান, তিনি তার বাপ-দাদাদের কাছ থেকে ম্যারাডোনার গল্প শুনে ভক্ত হয়েছিলেন। তাদের সঙ্গে খেলা দেখে তিনি আর্জেন্টিনাকে ভালোবেসে ফেলেন। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ক্লাব পর্যায়ের খেলাসহ আর্জেন্টিনার সব টুর্নামেন্টের খেলা তিনি উপভোগ করেন। তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের মেসি আছে। বিগত বিশ্বকাপ আমরা জিতেছি, ইনশাল্লাহ এবারও জিতে বিজয় উল্লাস করব।’
আর্জেন্টিনা ফ্যান ক্লাবের সদস্য শংকর ঘোষ পিলু জানান, তারা আর্জেন্টিনার ভক্তরা ইতোমধ্যে শহরে বর্ণিল শোভাযাত্রা করেছেন। তাদের কাছে বিশ্বকাপ মানেই আর্জেন্টিনা। তাদের স্বপ্ন ও প্রাপ্তি সবকিছুই এখন আর্জেন্টিনাকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে।
