ইসলামে উগ্রবাদ, সন্ত্রাস কিংবা ঘৃণার রাজনীতির কোনো স্থান নেই। বরং ধর্মটি মানুষে মানুষে ভালোবাসা, সহমর্মিতা, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার শিক্ষা দেয়। ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে এই মূল্যবোধগুলো চর্চার মাধ্যমেই একটি শান্তিপূর্ণ ও সহিংসতামুক্ত বিশ্ব গড়ে তোলা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের সানাই কনভেনশন হলে ‘উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসমুক্ত দেশ-জাতি গঠনে সম্প্রীতির আলোকে সমাজ প্রতিষ্ঠায় করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওলাদে রাসূল (সা.), সাজ্জাদানশীন-এ দরবারে গাউছুল আযম মাইজভাণ্ডার শরীফ এবং হযরত শাহসুফি ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী ওয়াল-হোসাইনী আল-মাইজভাণ্ডারী (মাদ্দাজিল্লুহুল আলী)।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. সাইফুদ্দীন আহমদ বলেন, ধর্মের অপব্যাখ্যা নয়, বরং সম্প্রীতির শিক্ষাই ইসলামের প্রকৃত পরিচয়। যারা ধর্মকে পুঁজি করে সহিংসতা ও বিভাজন ছড়ায়, তারা ইসলামের শান্তি ও মানবকল্যাণের আদর্শ থেকে বিচ্যুত। তিনি আরও বলেন, উগ্রবাদ কোনো ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করে না। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মানবতার আদর্শে গড়ে তুলতে ধর্মীয় নেতা, শিক্ষাবিদ ও তরুণ সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেবিবিএ (জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশ বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন)-এর সভাপতি মোহাম্মদ গিয়াস আহমেদ। তিনি প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অপর বিশেষ অতিথি মোহাম্মদ আতিকুল্লাহ্ বলেন, চরমপন্থা প্রতিরোধে পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত সচেতনতা জরুরি।
সভায় উপস্থিত ছিলেন খলিফা মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন, মোহাম্মদ কোরবান আলী, আক্কাস মিয়া, সেতু মিয়া, হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী ট্রাস্টের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মোহাম্মদ রানা তালুকদার, সাইদুল আলম সুজন, মোহাম্মদ জালাল তালুকদার, মোহাম্মদ মানিক ও মোহাম্মদ হিরুসহ স্থানীয় কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা বর্তমান বিশ্বের সামাজিক বিভাজন ও বিদ্বেষ দূর করতে আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, বাংলাদেশের সমৃদ্ধি এবং বিশ্বমানবতার কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন হযরত শাহসুফি ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী ওয়াল-হোসাইনী আল-মাইজভাণ্ডারী।

