দেশের অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা দুর্নীতিগ্রস্ত ও চোর, মন্তব্য স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের

দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের বড় একটি অংশই দুর্নীতি ও চুরির সঙ্গে জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা অডিটোরিয়ামে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ অভিযোগ করেন। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান প্রশাসনিক ব্যবস্থায় এখনো আগের সরকারের ঘনিষ্ঠ অনেকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন, যার ফলে সরকারের প্রকৃত চিত্র জনগণের সামনে সঠিকভাবে ফুটে উঠছে না।

আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের শাসনামলের তীব্র সমালোচনা করে স্পিকার বলেন, এই সময়কালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাষ্ট্রের কোষাগার লুণ্ঠন করা হয়েছে। বিশেষ করে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, একজন প্রতিমন্ত্রী হয়েও তিনি লন্ডনে ৩৬০টি বাড়ি কিনেছেন, যা চরম দুর্নীতির নজির। তিনি দাবি করেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়েছেন এবং দেশকে অন্য দেশের সরকারের নিয়ন্ত্রণে তুলে দেওয়ার অপচেষ্টা করেছেন।

প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ও প্রভাব নিয়েও কঠোর অবস্থানে কথা বলেন স্পিকার। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যেন স্বয়ংসম্পূর্ণ না হতে পারে, সেজন্য প্রতিবেশী রাষ্ট্র সবসময় অপচেষ্টা চালিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে ভারতীয় জাহাজ এলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাংলাদেশের নিজস্ব জাহাজগুলোকেও বন্দর ত্যাগে বাধ্য করা হয়। এছাড়া, নামমাত্র শুল্কে পণ্য পরিবহনের সুবিধা নেওয়া হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতি ও জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সীমান্তে প্রাণহানির ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে হাফিজ উদ্দিন বলেন, প্রতিবেশী দেশ অন্য সীমান্তে এমন আচরণ না করলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত নিরীহ মানুষ হত্যা করছে। তিনি বলেন, পত্রিকা ও টেলিভিশন খুললেই সীমান্ত হত্যার চিত্র দেখা যায়, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তার সহযোগীদের দায়ী করে তিনি বলেন, তারা ব্যক্তিগত ও দলীয় ফায়দা লুটতে গিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থের সঙ্গে আপস করেছেন। বক্তৃতার এক পর্যায়ে তিনি দেশের বর্তমান অদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করেন এবং এসব কর্মকাণ্ডকে জাতীয় বিপর্যয় হিসেবে আখ্যায়িত করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আগের (আওয়ামী লীগ) সরকার ১৬-১৭ বছরে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ না দেখে, ওই প্রতিবেশীর স্বার্থই দেখেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু এখানে নিরীহ মানুষকে…পত্রিকা খুললে, টেলিভিশন খুললে দেখবেন আহত-নিহত হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার মতে, এসব কর্মকর্তার ঘুষ-লুটপাটের ফলে জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যা কিছু বিদেশি সাহায্য এসেছে, সবকিছু তারা চুরি করে বিদেশে পাচার করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাংলাদেশ ব্যাংক, সেই ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে পর্যন্ত টাকা চুরি করে তারা ফিলিপাইন নিয়ে গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফিলিপাইনে যারা এ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিল, তারা এখন সবাই কারাগারে আছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু এ ঘটনায় জড়িত বাংলাদেশের কারও কোনো বিচার হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এগুলো নানা ধরনের ঘুষখোরি, লুটপাট এসব করে; যার ফলে মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে।’ ‘যেসব অন্যায়-অবিচারের বিচার সব দেশে জনগণের চাওয়া ছাড়াই হয়।