অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় পেরিয়ে গেলেও দেশের সংগীত পাড়ায় নেই কোনো উৎসবের আমেজ। ঈদ বা ভালোবাসা দিবসের মতো বিশেষ দিনগুলোতে নতুন গান নিয়ে যে তুমুল ব্যস্ততা থাকত, তার ছিটেফোঁটাও এখন দেখা যাচ্ছে না। স্টুডিওগুলোতে বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা। শিল্পী, গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালকদের একটি বড় অংশ এখন অলস সময় পার করছেন। পূজাকে কেন্দ্র করে আগে অ্যালবাম প্রকাশের যে রীতি ছিল, বর্তমানে তা প্রায় বিলুপ্ত। এমনকি কোরবানির ঈদের পর থেকেই গানের প্রকাশনা আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। ব্যতিক্রম কেবল ধ্রুব মিউজিক স্টেশন, যারা একক অ্যালবাম প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছে এবং ইতোমধ্যে কাজী শুভ’র একক অ্যালবাম ডিজিটালি উন্মুক্ত করেছে।
সংগীতের এই মন্দার প্রভাব পড়েছে আয়-রোজগারেও। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে অধিকাংশ অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান গানের চেয়ে নাটক নির্মাণে বেশি বিনিয়োগ করছে। এ বিষয়ে লেজারভিশনের কর্ণধার ও এমআইবি সভাপতি এ কে এম আরিফুর রহমান বলেন, গান থেকে আয় এখন তলানিতে ঠেকেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বিনিয়োগের ক্ষতি পোষাতে নাটকের দিকে ঝুঁকেছে। তবে তিনি জানান, তারা নিয়মিত গান প্রকাশের মাধ্যমে সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে সামনের শীত মৌসুম নিয়েও অনিশ্চয়তা কাটছে না। স্টেজে গান করার যে ভরা মৌসুম সামনে আসছে, সেখানেও শো আয়োজনের সংখ্যা বেশ কম হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্টেজ শো বাতিলের ঘটনা শিল্পী ও কলাকুশলীদের দুশ্চিন্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
এ প্রজন্মের জনপ্রিয় শিল্পী সালমা সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করে বলেন, গান ও স্টেজ শো-এর বর্তমান অবস্থা মোটেও সন্তোষজনক নয়। তিনি ব্যক্তিগতভাবে নিজের ইউটিউব চ্যানেল কিংবা অন্য প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে নিয়মিত কাজ করার পাশাপাশি স্টেজ শো চালিয়ে গেলেও, কাজের সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কম। শিল্পী, গীতিকার, সুরকার ও প্রযোজকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের স্বার্থেই সংগীতাঙ্গনের এই অচলাবস্থা দ্রুত নিরসন হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। অনিশ্চয়তার দীর্ঘশ্বাসে সংগীতের এই অঙ্গন এখন রীতিমতো কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।

