২০২৭ অ্যাশেজ খেলা নিয়ে অনিশ্চিত স্টিভ স্মিথ

টেস্ট ক্রিকেটে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে আগেভাগে কোনো নিশ্চয়তা দিতে রাজি নন অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ ব্যাটার স্টিভ স্মিথ। ৩৭ বছর বয়সী এই তারকা ক্রিকেটার জানিয়েছেন, তিনি সিরিজ ধরে ধরে এগোতে পছন্দ করেন। তাই ২০২৭ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে অনুষ্ঠেয় অ্যাশেজ সিরিজে খেলা হবে কি না, তা নিয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না তিনি। যদিও ইংল্যান্ডে গিয়ে অ্যাশেজ সিরিজ জয়ের আকাঙ্ক্ষা তার রয়েছে, তবে বর্তমান পরিস্থিতির নিরিখে সবকিছু নির্ভর করছে সময়ের ওপরই।

দ্য টেলিগ্রাফের সাথে আলাপচারিতায় স্মিথ বলেন, ‘আমি নিজেও জানি না আমি তখন সেখানে থাকব কি না। দীর্ঘদিন ধরেই আমি এক সিরিজ করে পরিকল্পনা করছি, আর অ্যাশেজ এখনো বেশ দূরে। যদি সেখানে কোনো সিরিজ জিততে পারি, তবে তা দারুণ হবে, কিন্তু আপাতত অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই।’

স্মিথের মনোযোগ এখন অস্ট্রেলিয়ার পরবর্তী টেস্ট সিরিজগুলোর দিকে, যার মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর অন্যতম। ২০১৮ সালের বল টেম্পারিং বিতর্কের পর এই প্রথম তিনি টেস্ট ফরম্যাটে দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলতে যাচ্ছেন। বিষয়টিকে বাড়তি গুরুত্ব না দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে এটি কেবলই একটি সিরিজ। অনেক বছর আগের সেই ঘটনা এখন অতীত। এরপর আমরা ওয়ানডে খেলতে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়েছি। বর্তমানে তারা বেশ শক্তিশালী দল এবং তাদের পেস আক্রমণও দারুণ।’

টেস্ট ক্যারিয়ার নিয়ে দোদুল্যমান থাকলেও ক্রিকেট ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা নেই স্মিথের। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে নিজের উপস্থিতি ধরে রাখার পাশাপাশি ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে খেলার প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। ইউরো টি-টোয়েন্টি প্রিমিয়ার লিগে আমস্টারডামের হয়ে খেলার পেছনেও লক্ষ্য ছিল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়া। নিজের অবসর নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করতে না চাইলেও তিনি জানান, খেলাটা এখনো উপভোগ করছেন এবং আগামী দিনগুলোতেও মাঠের লড়াইয়ে থাকার আশা করছেন।

গত ১৫ বছরের পেশাদার ক্রিকেট ক্যারিয়ারকে চমৎকার এক যাত্রা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন স্মিথ। গত দুই বছরে টেস্টে তার গড় ৪৯.৪ এবং সেঞ্চুরির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭-এ। আধুনিক টেস্টের কঠিন কন্ডিশনেও রান পাওয়ার নতুন সব উপায় খুঁজে বের করেছেন তিনি। স্মিথ বলেন, ‘আমি মনে করি দারুণ ব্যাটিং করছি। কঠিন পিচেও রান করার পদ্ধতি আয়ত্ত করেছি। দলের হয়ে রান তোলা, ক্যাচ নেওয়া এবং প্রয়োজনে নেতৃত্ব দিয়ে অবদান রাখাই আমার মূল লক্ষ্য। সব মিলিয়ে শেষ কয়েকটা বছর বেশ উপভোগ্য কেটেছে।’