নোয়াখালীতে তীব্র গ্যাস সংকট: সিএনজি ও আবাসিকে চরম ভোগান্তি

সারাদেশের মতো নোয়াখালী জেলাতেও বর্তমানে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। হঠাৎ করেই গ্যাসের চাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় জেলার সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এই সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে আবাসিক গ্রাহক ও উৎপাদনমুখী শিল্পকারখানায়। ডি.ডি. ফিলিং স্টেশন, মেসার্স সাবিক সিএনজি রি-ফুয়েলিং এবং মেসার্স মা আয়েশা ফিলিং স্টেশনসহ জেলার বেশ কয়েকটি সিএনজি স্টেশনে সরেজমিনে দেখা গেছে, গ্যাসের চাপ কম থাকায় সকাল থেকেই সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে গ্যাস নিতে আসা যানবাহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হওয়ায় গাড়ির মালিক, চালক ও শ্রমিকদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। কিছু ফিলিং স্টেশনে সীমিত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।

পরিবহন চালকদের ভাষ্যমতে, ভোররাত থেকে ৫-৬ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও প্রয়োজনীয় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। এতে তাদের কর্মঘণ্টার বড় একটি অংশ নষ্ট হচ্ছে, যার ফলে গাড়ির জমা, ব্যক্তিগত খরচ ও দৈনন্দিন আয় নিয়ে তারা বিপাকে পড়েছেন। চালকদের কেউ কেউ জানান, কিছুদিন আগে দেশে তেলের সংকট তৈরি হয়েছিল, যা দাম বাড়ানোর পর কিছুটা স্বাভাবিক হয়। এখন গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনে দাম বাড়িয়ে হলেও গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানান তারা। স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গ্যাসের চাপ কম থাকায় তাদের কিছুই করার নেই এবং তারা প্রতিনিয়ত লোকসানের মুখে পড়ছেন। আগে যেখানে একটি গাড়িতে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার গ্যাস দেওয়া সম্ভব হতো, বর্তমানে সেখানে সর্বোচ্চ ২০০ টাকার মতো গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে। দ্রুত সমাধান না হলে ফিলিং স্টেশন বন্ধ করে দেওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তারা।

সিএনজি স্টেশনের পাশাপাশি আবাসিক এলাকাতেও তীব্র সংকট চলছে। জেলা শহর মাইজদীর হাউজিং এলাকা, লক্ষ্মীনারায়ণপুর, গোপাই, গাবতলী, সোনাপুর ও মাইজদী বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় কয়েকদিন ধরে গ্যাস না থাকায় গ্রাহকরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। আবাসিক গ্রাহকরা জানান, দিনের অধিকাংশ সময় চুলায় গ্যাসের চাপ না থাকায় রান্নাবান্না করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সকাল ও রাতে গ্যাস না থাকায় বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। অনেকে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত খরচ করে বিকল্প হিসেবে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর বড় চাপ তৈরি করেছে। নিয়মিত বিল পরিশোধ করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, নোয়াখালীর উপ-মহাব্যবস্থাপক শাহ আলম জানান, জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সংকটের কারণে ফেনীর গ্যাস কন্ট্রোল রুম থেকে সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে প্রাপ্ত গ্যাস বর্তমানে জাতীয় গ্রিডের মাধ্যমে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর অঞ্চলে সংকট দেখা দিয়েছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে কোম্পানীগঞ্জের সুন্দলপুর, হাবিবপুর ও বেগমগঞ্জ গ্যাস ফিল্ড থেকে পাওয়া গ্যাস দিয়েই এই অঞ্চলের সীমিত চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে। তবে সংকট কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে জনজীবনে দুর্ভোগ আরও বাড়বে। তাই সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত