আগামী বুধবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এই তথ্য জানান। উদ্বোধনের দিন জাদুঘরটি বিশেষ অতিথি ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে এবং পরদিন ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার থেকে এটি সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
সংস্কৃতি মন্ত্রী জানান, বুধবার সকাল ৯টায় জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জাদুঘরের ফলক উন্মোচন করবেন। উদ্বোধনের পর তিনি জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ও প্রদর্শনী ঘুরে দেখবেন। এছাড়া সংরক্ষিত নিদর্শন, আলোকচিত্র, দলিলপত্র ও স্মারকসমূহ পরিদর্শনের মাধ্যমে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সম্পর্কে জানবেন।
জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য হিসেবে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গৌরবময় স্মৃতি সংরক্ষণ করা, সংগ্রামের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং শহীদ ও জুলাই যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের স্মারক হিসেবে এটিকে প্রতিষ্ঠিত করা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীরত্বগাথা ও আত্মত্যাগের স্মৃতিচারণ করে জুলাই যোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য রাখবেন। এছাড়া গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ ও বিজয়ের ইতিহাস নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে দেশের বিশিষ্ট শিল্পীদের অংশগ্রহণে দেশাত্মবোধক গান ও আবৃত্তি পরিবেশিত হবে, যার মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ তুলে ধরা হবে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে জাদুঘরের মহাপরিচালক উপস্থিত অতিথি, শহীদ পরিবারের সদস্য, গণমাধ্যমকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবেন। এতে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কূটনীতিক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত থাকবেন। জাদুঘরে প্রবেশের জন্য অনলাইনে টিকিটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যেখানে বড়দের জন্য ৫০ টাকা এবং ছোটদের জন্য ২৫ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

