জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬: বিজ্ঞান বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন ও উত্তর

উদ্ভিদবিজ্ঞানের বিভিন্ন প্রক্রিয়া যেমন ইমবাইবেশন, ব্যাপন ও অভিস্রবণ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের স্বচ্ছ ধারণা থাকা প্রয়োজন। ধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক মিজানুর রহমান জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির সুবিধার্থে বিজ্ঞান বিষয়ের তৃতীয় অধ্যায় থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।

ইমবাইবেশন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কলয়েডধর্মী পদার্থগুলো পানি শোষণ করে। উদ্ভিদ দেহে থাকা স্টার্চ, সেলুলোজ ও জিলেটিনের মতো কলয়েডধর্মী পদার্থগুলো তাদের বিশেষ গুণের কারণে তরল বা পানি শোষণ করতে পারে। এই প্রক্রিয়ার কারণেই শুকনা কাঠ পানিগ্রাহী হয়ে থাকে, কারণ শুকনা কাঠে পানির অভাব থাকে এবং সেলুলোজের কলয়েডধর্মী গুণের কারণে তা দ্রুত পানি শোষণ করে।

বাতাসে ফুলের সুবাস ছড়িয়ে পড়ার পেছনে কাজ করে ব্যাপন প্রক্রিয়া। ব্যাপন প্রক্রিয়ায় তরল ও গ্যাসের ক্ষুদ্র অণুগুলো উচ্চ ঘনত্বের স্থান থেকে নিম্ন ঘনত্বের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। যতক্ষণ পর্যন্ত অণুগুলোর ঘনত্ব সর্বত্র সমান না হয়, ততক্ষণ এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে। ফুলের সুবাসের ঘনত্ব ফুলের কাছে বেশি থাকায় তা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

কিশমিশ পানিতে ফুলে ওঠার কারণ হলো অন্তঃঅভিস্রবণ। কিশমিশের ভেতরে কোষরসের গাঢ় দ্রবণ থাকে এবং এর কোষপর্দা অর্ধভেদ্য। বাইরের পাতলা দ্রবণ থেকে পানি অভিস্রবণের মাধ্যমে ভেতরে প্রবেশ করলে কিশমিশ ফুলে ওঠে।

প্রস্বেদনকে অনেক সময় 'Necessary evil' বা প্রয়োজনীয় ক্ষতি বলা হয়। উদ্ভিদের অতিরিক্ত পানি বাষ্পাকারে বের করে দিয়ে অতিরিক্ত চাপের হাত থেকে রক্ষা করাই এর কাজ, যদিও এই প্রক্রিয়ায় প্রচুর পানি বেরিয়ে যাওয়ায় উদ্ভিদের মৃত্যুও হতে পারে। এছাড়া পর্দার ধরনের ওপর ভিত্তি করে পলিথিনকে অভেদ্য পর্দা বলা হয়, কারণ এর মধ্য দিয়ে দ্রব বা দ্রাবক কোনোটিই চলাচল করতে পারে না। অন্যদিকে, মাছের পটকাকে অর্ধভেদ্য পর্দা বলা হয়, কারণ এটি শুধুমাত্র দ্রাবক অণু চলাচল করতে দেয় কিন্তু দ্রব চলাচল করতে পারে না।