আরও এক পুরোনো মামলায় কারাগারে মুজিব পরদেশী

চেক ডিজঅনারের একটি মামলায় বর্তমানে কারাগারে থাকা জনপ্রিয় লোকসংগীত শিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক মুজিব পরদেশীকে আরও একটি পুরোনো সাজাপ্রাপ্ত মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। প্রায় ১৯ বছর আগে দায়ের করা ওই মামলায় তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার পঞ্চম যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ সাদিক আহম্মেদ এই আদেশ প্রদান করেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী শাহ আলম মিয়া জানান, মজিবুর রহমানের করা ওই মামলায় ২০০৭ সালের ২১ নভেম্বর মুজিব পরদেশীকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে তাকে ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্ত অর্থের মধ্যে ৫ লাখ টাকা বাদীকে প্রদান করার এবং বাকি ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা ছিল।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০০৩ সালে বাদী মজিবুর রহমানের ছোট ভাই সোলায়মান সরদারকে যুক্তরাজ্যে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে তার কাছ থেকে ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন মুজিব পরদেশী। এর মধ্যে ব্যাংকের মাধ্যমে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং বাকি ২ লাখ ২০ হাজার টাকা নগদে গ্রহণ করেন তিনি। পরবর্তীতে সোলায়মানকে যুক্তরাজ্যে নিতে ব্যর্থ হলে মজিবুর রহমান তার টাকা ফেরত দাবি করেন।

টাকা ফেরতের অংশ হিসেবে মুজিব পরদেশী ২ লাখ ২০ হাজার টাকার দুটি চেক প্রদান করেন। তবে ব্যাংকে জমা দিলে পর্যাপ্ত তহবিল না থাকায় চেক দুটি একাধিকবার প্রত্যাখ্যাত হয়। আইনি নোটিশ পাঠিয়েও টাকা উদ্ধার করতে না পেরে ২০০৪ সালের ১ জুন মজিবুর রহমান মামলাটি দায়ের করেন। ওই মামলায়ই ২০০৭ সালে মুজিব পরদেশীর বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়, সংগীতশিল্পী হিসেবে নিজের পরিচিতি ব্যবহার করে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও তিনি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

এর আগে ১০ লাখ টাকার একটি চেক ডিজঅনার মামলায় গত ৪ আগস্ট মুজিব পরদেশীকে কারাগারে পাঠানো হয়। ২০২২ সালে ইদ্রিস আলী বিশ্বাস মাগুরার আদালতে ওই মামলাটি করেছিলেন। সেই মামলায় ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ মাগুরার দ্বিতীয় যুগ্ম দায়রা জজ মুহাম্মদ আনোয়ার ছাদাত তাকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং চেকের সমপরিমাণ ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছিলেন।

রায় ঘোষণার সময় মুজিব পরদেশী পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ওই পরোয়ানার ভিত্তিতে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বর্তমানে কারাগারে থাকা মুজিব পরদেশীকে মজিবুর রহমানের করা পুরোনো চেক ডিজঅনার মামলায়ও গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুর রহমান মিয়া, যা আদালত মঞ্জুর করেছেন। উল্লেখ্য, মুজিব পরদেশীর আসল নাম মুজিবুর রহমান মোল্লা। আশির দশকে বাংলা লোকগানের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন।