কানাডার সঙ্গেই থাকছে আলবার্টা, বিচ্ছিন্নতার দাবি বড় ধাক্কা

কানাডার আলবার্টা প্রদেশের ভোটাররা শেষ পর্যন্ত দেশটির সঙ্গে থাকার পক্ষেই রায় দিয়েছেন। স্বাধীনতার দাবি এবং এ বিষয়ে বাধ্যতামূলক গণভোট আয়োজনের আইনি প্রক্রিয়া শুরুর প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন তারা। এই ভোটে কানাডার অংশ হিসেবে আলবার্টার অবস্থান বজায় রাখার পক্ষে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ভোটার সমর্থন দিয়েছেন। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ১৩ লাখ ৭০৭ জন ভোটার কানাডার প্রদেশ হিসেবে আলবার্টার অস্তিত্ব রক্ষার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। অন্যদিকে, সংবিধান অনুযায়ী স্বাধীনতার জন্য আইনি প্রক্রিয়া শুরুর পক্ষে মত দিয়েছেন ৪ লাখ ১৪ হাজার ৫৯১ জন ভোটার। ভোটকেন্দ্রগুলোর ৭০ শতাংশের কিছু বেশি থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই প্রাথমিক হিসাব জানা গেছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ১৭ লাখের বেশি ভোট পড়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার প্রাথমিক ফল এবং বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশের কথা রয়েছে। কানাডা থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চায় না আলবার্টা।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি ভোটারদের এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, আলবার্টাবাসী অত্যন্ত স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আলবার্টা কানাডাকেই বেছে নিয়েছে। এদিকে ভোটের ফলে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বড় ধরনের ধাক্কা খাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট। তবে এত বড় ব্যবধানে পিছিয়ে থাকার পরও বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতারা নিজেদের সাফল্যের দাবি করছেন। তারা মনে করছেন, একসময় যে বিষয়টি প্রান্তিক পর্যায়ে ছিল, তা এখন ব্যালট পেপারের মাধ্যমে মূলধারার আলোচনায় স্থান করে নিয়েছে। বিবিসি’র প্রধান আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা লাইস দুসের মতে, কানাডার অখণ্ডতার পক্ষে রায় নিশ্চিত হলেও বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন থেমে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। আন্দোলনের অন্যতম নেতা জেফরি র‌্যাথ জানিয়েছেন, তাদের তৎপরতা বন্ধ হবে না। ভবিষ্যতেও তারা এই যুক্তি তুলে ধরবেন যে, প্রদেশের দাবিগুলো পূরণ করতে হলে আলবার্টার স্বাধীনতা অপরিহার্য। ফলে স্বাধীনতার দাবিতে গণভোটের উদ্যোগে বড় ধাক্কা খেয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা।