ইরানের চলচ্চিত্র নির্মাতা জাফর পানাহিকে নতুন করে কারাদণ্ড

ইরানের খ্যাতনামা চলচ্চিত্র পরিচালক জাফর পানাহি নতুন করে আইনি জটিলতায় পড়েছেন। তেহরানের একটি বিশেষ আদালত (তেহরান রিভলিউশনারি কোর্ট) তাঁকে পাঁচ বছর এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে। পরিচালকের আইনজীবী মোস্তফা নিলি জানিয়েছেন, তাঁর মক্কেলের অনুপস্থিতিতেই আদালত এই রায় ঘোষণা করেছে। এমনকি মামলার শুনানির আগে পানাহিকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিও পাঠানো হয়নি বলে দাবি করেছেন আইনজীবী। গত সপ্তাহে আকস্মিকভাবে পরিচালকের ব্যাংক হিসাবগুলো জব্দ করা হলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তবে নতুন মামলার রায়টি আগের মামলা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা বলে জানা যাচ্ছে। এর পরেই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গিয়ে নতুন রায়ের কথা জানতে পারেন পানাহি ও তাঁর আইনজীবী। আগামী দু’বছর সমাজমাধ্যমে কোনও কার্যকলাপ চালাতে পারবেন না তিনি। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগতে পানাহি অত্যন্ত পরিচিত নাম। তা সত্ত্বেও ছবি তৈরি বন্ধ করেননি পরিচালক।

নতুন এই কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালত তাঁর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করারও নির্দেশ দিয়েছে। সেই সঙ্গে আগামী দুই বছরের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেকোনো ধরনের কর্মকাণ্ড এবং বিদেশ ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আইনজীবী মোস্তফা নিলি জানিয়েছেন, কারাদণ্ডটি কার্যকর করার বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। বর্তমানে পরিচালকের বিরুদ্ধে আরও তিনটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। একই সময়ের জন্য বিদেশযাত্রার উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁর উপর নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

এর আগে ইরান সরকারের বিরুদ্ধে প্রচার চালানোর অভিযোগে জাফর পানাহিকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। সেই দণ্ডের মেয়াদ এখনো কার্যকর রয়েছে। ফলে নতুন রায়ের ফলে তাঁর শাস্তির মেয়াদ আরও দীর্ঘ হলো। তবে নতুন মামলার অভিযোগের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। পানাহি বর্তমানে তাঁর পরিচালিত ছবি ‘ইট ওয়াজ় জাস্ট অ্যান অ্যাক্সিডেন্ট’-এর প্রেক্ষাপটে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। ছবিটি ২০২৫ সালের কান চলচ্চিত্র উৎসবে সম্মানিত হয়েছে এবং অস্কারের দৌড়েও ছিল। ৩০ মার্চ ২০২৬ তারিখে তিনি ইরানে ফিরে আসেন। তবে নতুন মামলায় ঠিক কী অভিযোগে এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে, তা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই নির্মাতা দীর্ঘ সময় ধরেই আইনি ও পেশাগত বাধার মুখে রয়েছেন। ২০১০ সালে তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি ছবি পরিচালনা, চিত্রনাট্য রচনা এবং সাক্ষাৎকার দেওয়ার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছিল। এর মধ্যেও তিনি সৃজনশীল কাজ চালিয়ে গেছেন। ২০২২ সালের জুলাই মাসে তাঁকে আবারও গ্রেপ্তার করা হয়। প্রায় সাত মাস কারাভোগের পর ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি মুক্তি পেয়েছিলেন। পানাহির সাম্প্রতিক ছবিগুলোতে তাঁর দীর্ঘদিনের বন্দিদশা, মানসিক যন্ত্রণা এবং পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট ফুটে উঠেছে। কিন্তু তাঁর কর্মজীবনের দীর্ঘ সময় জুড়েই রয়েছে আইনি বাধা ও নিষেধাজ্ঞার ঘটনা।