টুইঙ্কল খান্নাকে কেন চড় মারতে চেয়েছিলেন আমির খান?

‘মেলা’ ছবির শুটিংয়ে টুইঙ্কলের সঙ্গে কী ঘটেছিল?

বলিউডের তারকা দম্পতি অক্ষয় কুমার ও টুইঙ্কল খান্নাকে নিয়ে একটি পুরোনো মজার ঘটনা সম্প্রতি আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০১৫ সালে টুইঙ্কল খান্নার লেখা বই ‘মিসেস ফানিবোনস’-এর প্রকাশনা উৎসবে এই ঘটনার কথা তিনি নিজেই সবার সামনে তুলে ধরেন। ওই অনুষ্ঠানে আমির খান ও চলচ্চিত্র নির্মাতা করণ জোহর উপস্থিত ছিলেন। এক পর্যায়ে করণ জোহর আমির খানকে প্রশ্ন করেন যে, টুইঙ্কলের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল এবং তিনি তাঁকে ভালো অভিনেত্রী মনে করতেন কি না।

আমিরের চড় মারার প্রসঙ্গ

আমির খানের উত্তরের আগেই টুইঙ্কল খান্না হাসিচ্ছলে ২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘মেলা’ সিনেমার শুটিংয়ের একটি দিনের কথা স্মরণ করেন। টুইঙ্কল জানান, শুটিং চলাকালে আমির তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন, কেন তিনি কাজে মন না দিয়ে অন্যমনস্ক হয়ে আছেন। জবাবে টুইঙ্কল তাঁকে জানিয়েছিলেন যে, তিনি অক্ষয় কুমারকে নিয়ে ভাবছেন। টুইঙ্কলের ভাষায়, এই কথা শোনার পর আমির এতটাই বিস্মিত হয়েছিলেন যে তিনি প্রায় তাঁকে চড়ই মারতে গিয়েছিলেন। ঘটনাটি আউটডোর শুটিংয়ের সময় ঘটেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ঘটনা নিয়ে আমিরের প্রতিক্রিয়া

টুইঙ্কলের এই দাবি শুনে আমির খান নিজেও কিছুটা অবাক হন। তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, আসলেই কি তিনি এমন কিছু করেছিলেন। আমির নিজের বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, তিনি ঠিক তেমনটা মনে করতে পারছেন না। পরে টুইঙ্কল ব্যাখ্যা করেন যে, আমির সরাসরি চড় মারেননি, তবে তাঁর মুখের অভিব্যক্তি অত্যন্ত বিরক্ত ও হতাশায় ভরা ছিল, যা দেখে মনে হয়েছিল তিনি চড় মারতে উদ্যত হয়েছেন।

টুইঙ্কলের প্রতি আমিরের মন্তব্য

আলোচনার সময় আমির খান টুইঙ্কলকে নিয়ে মজাদার মন্তব্য করতে ছাড়েননি। তিনি বলেন, মানুষকে খোঁচা দেওয়া টুইঙ্কলের অসাধারণ এক প্রতিভা। আমির বলেন, ‘যতদিন ধরে আমি ওকে চিনি, ও আমাকে অপমান করেই যাচ্ছে। এ ব্যাপারে সে সত্যিই বিশেষজ্ঞ।’ পাল্টা জবাবে টুইঙ্কলও ‘মেলা’ ছবির শুটিংয়ের আরেকটি গোপন কথা ফাঁস করেন। তিনি দাবি করেন, একবার এক দৃশ্য নিয়ে পরিচালকের সঙ্গে মতভেদের জেরে আমির খুব কষ্ট পেয়েছিলেন এবং একটি বড় পাথরের আড়ালে গিয়ে কেঁদেছিলেন। এই কথা শুনে আমির মজা করে বলেছিলেন, ‘দেখুন, ও আবার শুরু করেছে!’

টুইঙ্কলের প্রতি শ্রদ্ধা

সব মজার আলোচনার শেষে আমির খান টুইঙ্কলের প্রশংসাও করেন। তিনি বলেন, পর্দায় টুইঙ্কলকে যতটা সরল মনে হতো, বাস্তবে তিনি তার চেয়ে অনেক বেশি বুদ্ধিমতী, রসিক এবং মানুষের সম্পর্ক ও আচরণ সম্পর্কে দারুণ দক্ষ। উল্লেখ্য, অভিনয় জীবনের ইতি টেনে ২০০১ সালে টুইঙ্কল খান্না লেখক হিসেবে নিজের নতুন কর্মজীবন শুরু করেন।