বিদেশে সফরসঙ্গী হওয়ার নতুন কৌশল কি সমঝোতা স্মারক?

বিদেশে সরকারি সফরে সফরসঙ্গী হওয়ার ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ স্বাক্ষর এখন একটি বড় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি কাজে বিভিন্ন সময় বিদেশ সফরের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও, এই সফরগুলোকে কেন্দ্র করে প্রতিনিধিদলের সফরসঙ্গী হওয়ার তালিকায় জায়গা করে নিতে এমওইউ বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়টিকে একটি কৌশলী মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নটি এখন জোরালোভাবে সামনে চলে এসেছে।

বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও সরকারি সফরে প্রতিনিধিদলের আকার এবং সেখানে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রায়ই জনমনে বিতর্ক তৈরি হয়। এই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে যখন দেখা যাচ্ছে যে, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মতো একটি আনুষ্ঠানিকতাকে পুঁজি করে অনেকেরই বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, সরকারি কাজে স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও বাস্তব প্রয়োজনীয়তার চেয়ে এই ধরনের এমওইউ স্বাক্ষরকে একটি অজুহাত বা মাধ্যম বানিয়ে সফরসঙ্গী হওয়ার প্রবণতা অনেকটাই বেড়ে গেছে।

বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সচেতন মহলে নানা প্রতিক্রিয়ার জন্ম হয়েছে। সরকারি সফরের নামে এই ধরনের চর্চা রাষ্ট্রীয় অর্থের সঠিক ব্যবহার কি না, সেটিও গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনার দাবি রাখছে। যথাযথ প্রয়োজন ছাড়া শুধু সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের অজুহাতে বিদেশ সফর কতটুকু যুক্তিসঙ্গত বা দেশের স্বার্থে কতটুকু কার্যকর, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও বেশি সতর্ক ও স্বচ্ছ হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন অনেকে। প্রশাসনিক পর্যায়ে এমন চর্চা বন্ধ না হলে সরকারি সফরের নৈতিকতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন থেকেই যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।