বিশ্বকাপে আর্জেন্টাইন কোচদের সাফল্যের জয়জয়কার

ইকুয়েডরের কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসের ভবিষ্যৎ নিয়ে মাত্র একদিন আগেও ছিল তীব্র অনিশ্চয়তা। তিনি ঘোষণা করেছিলেন, দল যদি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠতে ব্যর্থ হয়, তবে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন। কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইকুয়েডর যখন রাউন্ড অব ৩২ নিশ্চিত করল, তখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন বেকাসেস।

নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি ছিল ইকুয়েডরের জন্য টিকে থাকার লড়াই। শক্তিশালী জার্মানির বিপক্ষে জয় পাওয়া নিয়ে অনেকেরই সন্দেহ ছিল, কিন্তু মাঠে অন্যরকম চিত্র দেখা যায়। দ্বিতীয়ার্থে গঞ্জালো প্লাতার জয়সূচক গোলে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি এক ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয়। এই অর্জনের মাধ্যমে ‘ই’ গ্রুপের অন্যতম সেরা তৃতীয় দল হিসেবে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে তারা।

ম্যাচ শেষে বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে আবেগপ্রবণ বেকাসেস গ্যালারিতে ছুটে যান এবং স্ত্রীকে আলিঙ্গন করে কপালে চুমু খান। পরবর্তীতে খেলোয়াড়দের সাথে মাঠজুড়ে উদ্‌যাপনে অংশ নেন তিনি। এই জয় কেবল ইকুয়েডরের নকআউট নিশ্চিত করেনি, বরং কোচ হিসেবে তার অবস্থানকেও অনেক বেশি শক্তিশালী করেছে।

জার্মানির মতো পরাশক্তিকে হারানোর আনন্দে ভাসছে ইকুয়েডর। দেশটির সরকার এই সাফল্যকে স্মরণীয় করে রাখতে একদিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে, যা বিশ্বকাপকে সেখানে জাতীয় উৎসবে রূপ দিয়েছে।

এবারের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ছয়জন আর্জেন্টাইন কোচের সাফল্য বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। লিওনেল স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনা আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে আগেই রাউন্ড অব ৩২ নিশ্চিত করেছে। দলের পাঁচটি গোলই এসেছে অধিনায়ক লিওনেল মেসির পা থেকে। এখন জর্ডানের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে অন্তত এক পয়েন্ট পেলেই তারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউটে উঠবে।

স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকা মরিসিও পচেত্তিনোও দুর্দান্ত ছন্দে আছেন। তুরস্কের কাছে শেষ ম্যাচে হারলেও প্রথম দুই জয়ের সুবাদে তারা গ্রুপসেরা হিসেবে নকআউটে পৌঁছেছে। একইভাবে গুস্তাভো আলফারোর প্যারাগুয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ড্র করে শেষ ৩২-এর টিকিট নিশ্চিত করেছে। মার্সেলো বিয়েলসার উরুগুয়ের অবস্থাও বেশ শক্ত, গোল ব্যবধানে তারা নকআউটের দৌড়ে এগিয়ে আছে।

নেস্টর লরেঞ্জোর কলম্বিয়া অবশ্য কোনো সমীকরণের অপেক্ষা না করেই উজবেকিস্তান ও ডিআর কঙ্গোকে হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত করে ফেলেছে। শেষ ম্যাচে পর্তুগালের মোকাবিলা করবে তারা। মজার বিষয় হলো, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৮ কোচের মধ্যে এই ছয়জন আর্জেন্টাইন কোচের পাঁচজনের জন্ম সান্তা ফে প্রদেশে, কেবল নেস্টর লরেঞ্জো বুয়েনস এইরেসের ভিলা সেলিনায় জন্মগ্রহণ করেছেন। ফুটবলপ্রেমীদের এখন বড় কৌতূহল, আর্জেন্টাইন কোচদের এই জয়ের ধারা শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামে।