সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন জানিয়েছেন যে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য উত্থাপিত বাজেটটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে। তিনি বলেন, সংবিধানের মৌলিক অধিকার এবং রাষ্ট্রের মূলনীতিসমূহকে অগ্রাধিকার দিয়ে জনগণের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যেই এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
রবিবার জাতীয় সংসদের সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনটির সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।
প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বক্তব্যে বলেন, অর্থমন্ত্রী দেশের সব স্তরের মানুষের জীবনমান পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই বাজেট প্রস্তাব করেছেন। এই বাজেটের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো যথাযথ বাস্তবায়ন, আর সরকার সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বদ্ধপরিকর। এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বর্তমান সরকারের অংশ হিসেবে যেকোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ গ্রহণে প্রস্তুত ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
বিগত সরকারের কঠোর সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ থেকে ২০ বছর ধরে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে যে পদ্ধতিগত ধ্বংসযজ্ঞ বা সিস্টেম্যাটিক ডিস্ট্রাকশন চালানো হয়েছে, তা হঠাৎ করেই রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়। তবে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ভঙ্গুর এই অর্থনীতি পুনর্গঠন করতে হবে এবং দেশে পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়কে আরও গতিশীল ও ভাইব্রেন্ট করার জন্য তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর পাইলটিং ইতিমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া কৃষক কার্ড ও তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা এই বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখন মূল লক্ষ্য হলো সুবিধাভোগীদের কাছে এসব সেবা সঠিকভাবে পৌঁছানো নিশ্চিত করা।
জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা স্মরণ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে। এই বাজেট আত্মসম্মান, আত্মনির্ভরশীলতা ও আত্মমর্যাদার কথা বলে। তিনি পারস্পরিক দোষারোপ বাদ দিয়ে একটি সবুজ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আরও যোগ করেন যে, রাস্তাঘাট পরিষ্কারের পাশাপাশি আমাদের মানসিকতাকেও পরিষ্কার করতে হবে।
নিজের নির্বাচনী এলাকা নাটোরের বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, উত্তরের চরাঞ্চলগুলোকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে। বিশেষ করে এই চরগুলোতে যদি সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়, তবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে।
