কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতে গোসলে নেমে নিখোঁজ হওয়া পর্যটক মোহাম্মদ সায়েমের মরদেহ ২১ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উখিয়ার রেজুখালে ভাসমান অবস্থায় কোস্টগার্ডের সদস্যরা তার মরদেহটি উদ্ধার করেন।
এর আগে, শনিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইকবালের ছেলে ২২ বছর বয়সী মোহাম্মদ সায়েম কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতে গোসলে নামার পর নিখোঁজ হন।
নিখোঁজ সায়েমের বন্ধু মো. আরমান জানান, তারা দুই বন্ধু শনিবার সকালে বান্দরবান থেকে কক্সবাজারে আসেন। এরপর মোটরসাইকেল নিয়ে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ ঘুরতে বের হন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ইনানী সৈকতের দক্ষিণ পাশে জেটিঘাট সংলগ্ন পালংকী রেস্তোরাঁর সামনে তারা গোসলে নামেন। হঠাৎ একটি বড় ঢেউয়ের তোড়ে সায়েম গভীর সাগরের দিকে ভেসে যান। সেই নির্জন সৈকতে তখন লাইফগার্ড বা পুলিশের উপস্থিতি ছিল না।
বন্ধুর বিপদে আরমান চিৎকার ও কান্নাকাটি শুরু করলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে স্থানীয় জেলে, বিচ কর্মী এবং ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে।
ইনানী টুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক গাজী আতাউর রহমান জানান, সায়েম ও আরমান বান্দরবান থেকে কক্সবাজারে পৌঁছানোর পর মোটরসাইকেল নিয়ে ইনানী সৈকতে গিয়ে গোসলে নামেন। এ সময় সায়েম নিখোঁজ হলেও তার বন্ধু আরমান অক্ষত অবস্থায় রক্ষা পান।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের বিচ কর্মীদের ইনচার্জ বেলাল উদ্দিন বলেন, সায়েমের বাবা মোহাম্মদ ইকবাল সারারাত তাকে খোঁজাখুঁজি করেন। রবিবার সকালে কোস্টগার্ড, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে রেজুখালে মরদেহ ভাসার খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সায়েমের বাবা মোহাম্মদ ইকবাল মরদেহটি দেখে তার ছেলের পরিচয় শনাক্ত করেন। পরে মরদেহটি উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
