হাসান মাহমুদ ক্যাচ দিয়ে আউট হতেই শেষ হলো বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস। দল অলআউট হয়ে গেল ১৮৫ রানে। এই হারের ফলে বাংলাদেশ ম্যাচটি ইনিংস ও ৮৫ রানে হেরেছে। উল্লেখ্য, ২৫ বছর পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে হারের লজ্জা দেখল বাংলাদেশ।
এর আগে তাওহিদ হৃদয় মুজারাবানির বলে ব্যাটের কানায় লেগে দ্বিতীয় স্লিপে দাঁড়ানো ফিল্ডারের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। তখন বাংলাদেশের ৬ উইকেট পড়ে গিয়েছিল এবং ইনিংস পরাজয় এড়াতে তখনও দেড় শ রানের বেশি প্রয়োজন ছিল। অধিনায়ক নাজমুল হোসেনের পর অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমও ফিরে যান। তাদের জুটিতেই বাংলাদেশ কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর আশা দেখছিল। মুশফিক ৬২ বলে ৩৪ রান করে মুজারাবানির বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির সময় ৫ উইকেটে বাংলাদেশের রান ছিল ১১৭, অর্থাৎ তখনও ইনিংস হার এড়াতে ১৫৩ রান দরকার ছিল। এর আগে ৩০ রানে আউট হন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন, যা মুশফিকের সঙ্গে তাঁর গড়া ৬১ রানের জুটি ভেঙে দেয়।
তৃতীয় দিনের শুরুটাও বাংলাদেশের জন্য মোটেও সুখকর ছিল না। দিনের প্রথম চার ওভারের মধ্যেই ব্লেসিং মুজারাবানির বলে মাহমুদুল হাসান ও মুমিনুল হক ফিরে যান। মাহমুদুল ২২ এবং মুমিনুল ১৩ রান করে আউট হন। এর আগে জিম্বাবুয়ে তাদের প্রথম ইনিংসে ৪১০ রানে অলআউট হয়। বাংলাদেশের বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম একাই ১৩৮ রান দিয়ে ৭ উইকেট শিকার করেছিলেন। জিম্বাবুয়ের ওপেনার ইনোসেন্ট কাইয়া ১৪০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস উপহার দিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে জিম্বাবুয়ের প্রথম ইনিংসের লিড ছিল ২৭০ রান।
জিম্বাবুয়েকে অলআউট করার পথে তাইজুল নিয়ামহুরিকে স্লিপে ক্যাচ বানিয়ে নিজের পঞ্চম উইকেট পেয়েছিলেন। এর আগে ক্রেইগ আরভিন ও ওয়েসলি মাধেভেরের ১০২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি ভাঙেন তাইজুল। আরভিন সুইপ করতে গিয়ে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কয়্যার লেগে ৬০ রানে ক্যাচ দেন। ওই সময়ে জিম্বাবুয়ে ৯৯ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৮৬ রান তুলে ২৫৬ রানের লিড নিয়েছিল। এক ওভারেই তাইজুল দুটি উইকেট তুলে নেন। কাইয়া ১৪০ রান করে সাদমান ইসলামের হাতে ক্যাচ দেন এবং এক বল পরই সিগা রান আউট হয়ে যান। এর আগে খালেদ আহমেদও দুটি উইকেট পেয়েছিলেন। ব্রায়ান বেনেট ৬৭ বলে ৫৯ রান করে তাইজুলের শিকার হন।
এর আগে দ্বিতীয় দিনের মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে জিম্বাবুয়ে ২ উইকেটে ২৪৯ রান নিয়ে এগিয়ে ছিল ১৪৯ রানে। ম্যাচে বোলাররা জিম্বাবুয়ের ওপর তেমন কোনো হুমকি তৈরি করতে পারছিলেন না। আগের দিন বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৪০ রানে অলআউট হয়েছিল। জিম্বাবুয়ে বোলারদের গতি ও বাউন্স সামলাতে গিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটাররা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট বিলিয়ে দিয়েছিলেন। অমিত হাসান ১৫ বলে ৪ রান, তাওহিদ হৃদয় ১৬ বলে ৩ রান এবং মুশফিকুর রহিম ২১ বলে ৯ রান করে আউট হয়েছিলেন। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন ফিরেছিলেন ১৯ রানে। সব মিলিয়ে ব্যাটিং ও বোলিংয়ে ব্যর্থতায় হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বড় পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে।
