টাইব্রেকারে রুদ্ধশ্বাস জয়, নেদারল্যান্ডসকে বিদায় করে শেষ ষোলোয় মরক্কো

ফুটবল বিশ্বকাপের ডার্ক হর্স হিসেবে খ্যাত দুই শক্তিশালী দল নেদারল্যান্ডস ও মরক্কোর মধ্যকার লড়াইটি শেষ পর্যন্ত সমর্থকদের প্রত্যাশামতোই শ্বাসরুদ্ধকর এক ম্যাচ উপহার দিয়েছে। নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং পরবর্তী অতিরিক্ত ৩০ মিনিট জুড়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চললেও কোনো পক্ষই জয়ী হতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটির নিষ্পত্তি হয় পেনাল্টি শ্যুটআউটে। নাটকীয় সেই টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে জয়লাভ করে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে মরক্কো।

ম্যাচের প্রথমার্ধে কোনো দলই জালের দেখা পায়নি। যদিও উভয় দলই গোল করার বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করেছিল, তবে এই ক্ষেত্রে কিছুটা বেশি আক্রমণাত্মক ছিল মরক্কো। ম্যাচের এক পর্যায়ে বাঁ পাশ থেকে ভেসে আসা একটি নিখুঁত ক্রসে পোস্টের সামনে ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থাকা ইসমাইল সাইবারি বল স্পর্শ করতে ব্যর্থ হন। ফলে গোলশূন্যভাবেই বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধের ৭১ মিনিটে গোলের দেখা পায় নেদারল্যান্ডস। কোডি গাকপোর সেই গোলটি আসে দারুণ এক পাল্টা আক্রমণ থেকে। বক্সে ঢুকে পড়ার সময় সামারভিল পেছন থেকে ফাউলের শিকার হওয়া সত্ত্বেও বল গাকপোর কাছে পৌঁছে দিতে সক্ষম হন। এরপর গাকপো নিজেও ফাউলের শিকার হন, তবে তিনি ভারসাম্য রেখে ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়ান। কিন্তু ৯১ মিনিটে দারুণভাবে ম্যাচে ফেরে মরক্কো। বদলি খেলোয়াড় তালবি বাঁ পাশ থেকে বক্সে একটি লম্বা বল ফেলেন। সেই ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে বল জালে পাঠান ঈসা দিওপ, যার ফলে ম্যাচের স্কোরলাইন ১-১ হয়।

অতিরিক্ত সময়ের সপ্তম মিনিটে সুফিয়ান রাহিমি গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন। নেদারল্যান্ডসের গোলরক্ষক ভেরব্রুগেন অবিশ্বাস্য এক সেভ করে সে যাত্রায় দলকে বাঁচান। ফলে অতিরিক্ত সময় শেষেও ১-১ গোলে সমতা থাকায় ম্যাচ গড়ায় পেনাল্টি শ্যুটআউটে।

টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসের কুপমাইনার্স প্রথম শট নিয়ে বল জালে জড়ান, মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াশিন বুনো সঠিক দিকে ঝাঁপিয়েও তা আটকাতে পারেননি। মরক্কোর হয়ে প্রথম শট নিতে আসা নেইল এল আইনানুইর শট আকাশে চলে যায়। এরপর নেদারল্যান্ডসের জাস্টিন ক্লুইভার্ট বুনোকে ভুল দিকে পাঠিয়েও বল পোস্টের বাইরে মারেন। মরক্কোর সুফিয়ান রাহিমির শট ভেরব্রুগেনের হাতে লেগে জালে জড়ালে স্কোর ১-১ হয়। এরপর ভের্গহর্স্টের শটে নেদারল্যান্ডস আবারও এগিয়ে যায়, তবে তালবি সফল স্পট কিকে স্কোর ২-২ করেন।

পরের ধাপে নেদারল্যান্ডসের কুইন্টেন টিম্বার লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নিয়ে মিস করেন। মরক্কোর এগিয়ে যাওয়ার বড় সুযোগ ছিল, কিন্তু আশরাফ হাকিমিও তার শট বাঁ দিকের পোস্ট দিয়ে বাইরে মেরে দেন। এর পরপরই নেদারল্যান্ডসের সামারভিলের শট ঠেকিয়ে দেন বুনো, যা মরক্কোকে ম্যাচ পয়েন্ট এনে দেয়। শেষ শটে ইসমাইল সাইবারি আর ভুল করেননি, গোল করার সাথে সাথে ৩-২ ব্যবধানে পেনাল্টি শ্যুটআউট জিতে নেয় মরক্কো। এই জয়ে গতবারের সেমিফাইনালিস্টরা এবারের আসরের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিল।