সরকারি নথিপত্র অনুযায়ী জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম সুখনগরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পুরোপুরি সচল। কাগজে-কলমে বিদ্যালয়টিতে চারজন শিক্ষক ও ৬২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে এবং নিয়মিতভাবে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা উত্তোলন করা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে গত প্রায় নয় বছর ধরে বিদ্যালয়টির শ্রেণিকক্ষ ও অফিসকক্ষে তালা ঝুলছে। সেখানে নেই কোনো পাঠদান, নেই শিক্ষক বা শিক্ষার্থীর কোনো উপস্থিতি। স্থানীয়রা আক্ষেপ করে বলছেন, বিদ্যালয়টির বর্তমান অবস্থা ‘কাজীর গরু কেতাবে আছে, গোয়ালে নেই’ প্রবাদটির বাস্তব প্রতিফলন।
এলাকাবাসীর তথ্যমতে, ২০১৭ সালের পর থেকে বিদ্যালয়টিতে নিয়মিত পাঠদান কার্যত বন্ধ রয়েছে। বছরের শুরুতে নতুন বই বিতরণের সময় কেবল কয়েক দিনের জন্য বিদ্যালয়টি খোলা হয়, এরপর পুনরায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। মাঝে মধ্যে অতি অল্প সময়ের জন্য খুললেও সেখানে কোনো শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয় না। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকেও বিদ্যালয়টির কোনো তদারকি করা হয় না। এমনকি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরিদর্শনের সময় পাশের কিন্ডারগার্টেন থেকে শিক্ষার্থী এনে উপস্থিত দেখানো হয়।
গত ২৪, ২৫, ২৮ ও ৩০ জুন সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি কার্যদিবসেই শ্রেণিকক্ষ ও অফিসকক্ষ তালাবদ্ধ। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের চিহ্ন নেই এবং প্রতিষ্ঠানের কোনো সাইনবোর্ডও দৃশ্যমান নয়। শ্রেণিকক্ষগুলোতে পাঠদানের ন্যূনতম পরিবেশ নেই, চারদিকে ময়লা-আবর্জনা জমে আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙা টিনের একটি কক্ষ মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের নথি অনুযায়ী, বিদ্যালয়টিতে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৬২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে কতজন শিক্ষার্থী নিয়মিত উপস্থিত থাকে বা উপবৃত্তি পাচ্ছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য কর্মকর্তারা দিতে পারেননি। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মশিউর রহমান সব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, কিন্ডারগার্টেন গড়ে ওঠায় শিক্ষার্থী কমে গেছে এবং পাকা ভবন না থাকায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তার কাছে থাকা প্রতিবেদনে বিদ্যালয়টি নিয়মিত সচল রয়েছে। তিনি সাত মাস ধরে কর্মরত থাকলেও এখনো সরেজমিনে পরিদর্শন করেননি। এদিকে, নতুন যোগদান করা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরীও বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নিয়ে তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নথি অনুযায়ী বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছে ৬২ জন। এর মধ্যে প্রাক্-প্রাথমিক শ্রেণিতে ১২ জন, প্রথম শ্রেণিতে ১০ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ১০ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ১০ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ১৩ জন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ৭ জন। তবে এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে কতজন নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসে ক

