নরসিংদীর পাইকারদিতে তিন মাসের এক শিশুর পা ভেঙে দেওয়ার দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তবে শিশুটির পরিবার এই দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে এডিট করা হয়েছে এবং শিশুর পা অক্ষত রয়েছে। গত ১১ জুন নরসিংদী সদর উপজেলার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকাদি এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাইকাদি এলাকার জহিরুল মিয়া ও সায়মা আক্তার দম্পতির তিন মাস বয়সী সন্তান রিজিক জন্মের পরপরই নানা জটিলতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি ছিল। এই সুবাদে সায়মা আক্তারের জাঁ (দেবর/ভাসুরের স্ত্রী) লতা বেগমকে বাড়ির কাজকর্ম করতে হয়। এ নিয়ে পারিবারিকভাবে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। এই বিরোধের জের ধরে গত ১১ জুন লতা বেগম শিশুটির পায়ে মোচড় দেন। সায়মা আক্তার সেই ঘটনা তার মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। পরবর্তীতে এই ভিডিওটি এআই দিয়ে এডিট করে শিশুর পা ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) খবর পেয়ে মাধবদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ শিশুটির বিষয়ে পরিবারের কাছে খোঁজখবর নেয় এবং সেখানে গিয়ে শিশুটির পা ভাঙা বা কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার চিহ্ন পায়নি। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটির বাবা জহিরুল মিয়া ও মা সায়মা আক্তার জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি এআই দিয়ে এডিট করা হয়েছে। তারা বলেন, “আমার সন্তানের কোনো পা ভাঙেনি। আপনারা নিজ চোখে দেখেন। তার পায়ে কোনো ব্যান্ডেজ বা প্লাস্টার নেই।” তারা আরও জানান, পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের জাঁর সঙ্গে মনোমালিন্য হয়েছিল, যার জেরে সে বাচ্চার পায়ে মোচড় দেয়। জাঁর বাবা তাদের বাসায় এসে তাকে বকাঝকা করেছেন এবং বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসা হয়ে গেছে।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন এই বিষয়ে বলেন, তারা একই সঙ্গে থাকেন এবং ব্যবসা করেন। সংসারে কাজকর্ম নিয়ে জাঁর সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে শিশুটির পায়ে মোচড় দেওয়া হয়। পরে সেটি এআই দিয়ে এডিট করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ওসি নিশ্চিত করেন, শিশুটির পা ভাঙেনি। তিনি নিজে তাদের বাড়ি গিয়ে শিশুটিকে দেখেছেন। এ বিষয়ে শিশুটির মা-বাবা থানায় এসেছিলেন এবং তাদের কোনো অভিযোগ নেই বলেও জানান ওসি।

