ইসরায়েলকে স্বীকৃতির শর্তে সৌদির সঙ্গে পরমাণু চুক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রস্তাবিত বেসামরিক পরমাণু চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নতুন এক শর্ত আরোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই চুক্তি কার্যকর করার আগে সৌদি আরবকে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে এবং ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এ যোগ দিতে হবে। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের এই অবস্থানের কথা জানান ট্রাম্প।

ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যে পরমাণু চুক্তির আলোচনা চলছে, তা শুধুমাত্র বেসামরিক প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য। এই চুক্তির আওতায় সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম বা অন্য কোনো পারমাণবিক উপাদান সমৃদ্ধ করার কোনো অনুমতি দেওয়া হবে না। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও সৌদি আরবের মধ্যে এই চুক্তির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরানের মতো দেশগুলোর বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির উল্লেখ করে জানান, সৌদি আরবও একই ধরনের প্রযুক্তি পাওয়ার যোগ্যতা রাখে, তবে তা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগদানের শর্তের ওপর নির্ভরশীল।

ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু একে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেন, সৌদি আরব আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যুক্ত হলে তা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হবে। তবে ট্রাম্পের এই নতুন শর্তের বিষয়ে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রিয়াদ এর আগে বরাবরই জানিয়ে এসেছে যে, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুস্পষ্ট পথ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে না।

বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পরমাণু চুক্তির প্রাথমিক ঘোষণার সময় ট্রাম্প আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের বিষয়টি প্রকাশ্যে উল্লেখ করেননি, যা তিনি পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সুদান, মরক্কো ও কাজাখস্তান আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ অবস্থান জানান।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত