আলফাডাঙ্গায় ধর্ষণের মিথ্যা গুজবে গণপিটুনির শিকার নিরপরাধ তরুণ, উদ্ধার করল পুলিশ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সংঘবদ্ধ ধর্ষণের একটি মিথ্যা গুজবকে কেন্দ্র করে গণপিটুনির শিকার হয়েছেন জয় কুন্ডু নামের এক নিরপরাধ তরুণ। তবে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, ওই ঘটনার সঙ্গে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এই যুবকের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল না। মূলত একটি মাদ্রাসাছাত্রী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুল তথ্য ছড়িয়ে তাকে হেনস্তা করা হয়, পরে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

ভুক্তভোগী জয় কুন্ডু বোয়ালমারী উপজেলার গুনবহা গ্রামের বাসিন্দা এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। গত সোমবার (৩ আগস্ট) ব্যবসায়িক প্রয়োজনে তিনি আলফাডাঙ্গার ওই ছাত্রীর এলাকার একটি দোকানে যান। সেখানে স্থানীয় কিছু লোক তাকে আটকে রেখে মারধর শুরু করে। একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয় যে, ওই মাদ্রাসাছাত্রীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে এবং জয় কুন্ডুই এই ঘটনার মূল হোতা। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

প্রকৃতপক্ষে ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল একটি প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে। পুলিশ ও ছাত্রীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আলফাডাঙ্গার ইউসুফেরবাগ মাদ্রাসার ১৪ বছর বয়সী এক ছাত্রীর সঙ্গে বোয়ালমারী উপজেলার গুনবহা গ্রামের বাসিন্দা ও 'প্রাণ' কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি সাজ্জাদ আলমের (২৮) প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্কের জেরে গত ২৩ জুলাই রাতে ওই ছাত্রী স্বেচ্ছায় বাড়ি থেকে চলে যায়। পরদিন ২৪ জুলাই তার মা আলফাডাঙ্গা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে ২৭ জুলাই সাজ্জাদ আলমের বোনের কাছ থেকে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা মেয়েটিকে উদ্ধার করে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন। বর্তমানে ওই ছাত্রী নিজের বাড়িতেই নিরাপদে রয়েছে এবং এ নিয়ে পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই।

মেয়ের বাবা স্থানীয় সাংবাদিকদের স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রেমের সম্পর্কের কারণেই তার মেয়ে স্বেচ্ছায় বাড়ি ছেড়েছিল। এই ঘটনায় তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা বা আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই। আলফাডাঙ্গার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আল আমিনও একই কথা নিশ্চিত করে বলেন, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বিষয়টি সম্পূর্ণ একটি গুজব। মেয়েটি এখন তার নিজের বাড়িতেই আছে এবং তার পরিবার কোনো অভিযোগ করেনি। তা সত্ত্বেও পুলিশ পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

can ঘটনার পর মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আজম খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের যে তথ্যটি ছড়ানো হচ্ছে, প্রাথমিক তদন্তে তার কোনো সত্যতা মেলেনি। এই ঘটনার পেছনে মূলত সাজ্জাদ আলম একাই জড়িত ছিলেন এবং তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত