কেপ ভার্দের রূপকথার লড়াইয়ে জয়ী আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপের ইতিহাসে কেপ ভার্দে ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ম্যাচটি দীর্ঘকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। মাত্র পাঁচ লাখ ৩০ হাজার মানুষের এই দ্বীপরাষ্ট্রটি ফুটবলে যে এতটা উন্নতি করেছে, তা অনেকেরই কল্পনার বাইরে ছিল। আফ্রিকা কাপ অব ন্যাশনসে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়া এই ব্লু শার্করা আর্জেন্টিনার বিপক্ষে যে লড়াই করেছে, তা ছিল অবিশ্বাস্য ও রোমাঞ্চকর। বিবিসির স্প্যানিশ ফুটবল রাইটার এলিজাবেথ কন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই লড়াই দেখে কেপ ভার্দের সমর্থক হওয়ার কথা জানিয়েছেন। ম্যাচে ২৮ মিনিট পর্যন্ত মেসিদের গতিরোধ করে রেখেছিল তারা, তবে ২৯ মিনিটের মাথায় মেসির গোলে আর্জেন্টিনা এগিয়ে যায়।

ম্যাচের ভাগ্য যখন আর্জেন্টিনার দিকে হেলে আছে বলে মনে হচ্ছিল, তখন কেপ ভার্দে গোল পরিশোধ করে সমতা ফেরায়। আর্জেন্টিনা এরপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকে এবং বিশেষ করে মেসি গোল করার চেষ্টা করেন, কিন্তু কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া এক অপ্রতিরোধ্য দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। খেলার ৯৩ মিনিটে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ জটলা থেকে একটি অপ্রত্যাশিত গোল করেন। তবে কয়েক মিনিট পরেই সিডনি লোপেস কাবরালের অপূর্ব গোলে কেপ ভার্দে পুনরায় খেলায় ফিরে আসে। এই গোলটি মেসিদের জন্য ছিল বড় ধাক্কা এবং কোচ স্কালোনির কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দেয়।

ম্যাচটি যখন পেনাল্টি শুটআউটের দিকে গড়াচ্ছিল, তখনই রোমেরোর হেড থেকে বল কেপ ভার্দের বোর্জেসের হাতে লেগে জালে জড়িয়ে যায়। অসহায় ভোজিনিয়া শুধু তাকিয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করতে পারেননি। যদিও পরাশক্তি আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত জয় পেয়েছে, তবে এই লড়াইয়ের আসল জয়ী কেপ ভার্দে, বিশেষ করে গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। এই ম্যাচটি শুধু মায়ামি স্টেডিয়ামে নয়, পুরো ফুটবল বিশ্বে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই সমসাময়িক ইতিহাসে বিরল। আগামী ৭ই জুলাই আটলান্টায় মিশর মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনার।