বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) অর্থনীতি বিভাগ ও অর্থনীতি ক্লাব যৌথভাবে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ইকোনমিকস অলিম্পিয়াড’ বা অর্থনীতি অলিম্পিয়াডের আয়োজন করেছে। ‘অর্থনীতিতে তরুণদের জয়গান’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে অর্থনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি, বিশ্লেষণাত্মক চিন্তাভাবনা ও বুদ্ধিবৃত্তিক কৌতূহল জাগিয়ে তোলাই ছিল এই অলিম্পিয়াডের মূল উদ্দেশ্য।
গত শনিবার বিইউবিটির ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স হলে দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় পর্যায়ের এই আয়োজনে দেশের শীর্ষস্থানীয় ২৫টি কলেজ থেকে প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থী চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণ করে।
অংশগ্রহণকারী উল্লেখযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল ঢাকা কলেজ, ঢাকা সিটি কলেজ, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বিএএফ শাহীন কলেজ, মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি কলেজ, বিপিএটিসি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বিসিআইসি কলেজ, জেইউ (জাবি) স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সেন্ট যোসেফ কলেজ, সাভার মডেল কলেজ এবং দনিয়া কলেজ।
বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক—এই তিনটি বিভাগের শিক্ষার্থীদেরই অলিম্পিয়াডে অংশ নিতে উৎসাহিত করা হয়। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকেরাও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী ও বিকেলের অধিবেশন
অলিম্পিয়াডের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফিন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক মোস্তফা কে মুজেরী। তিনি তাঁর বক্তব্যে অর্থনীতিকে বাস্তব জীবনের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি রূপান্তরমূলক হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করেন। এই অর্থনীতিবিদ একটি টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যৎ গঠনে তরুণ প্রজন্মকে বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষ সাধনের আহ্বান জানান।
বিকেলের অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মানবিক বিভাগের (অর্থনীতি) অধ্যাপক মো. আবদুর রউফ। তিনি ‘অর্থনীতির ক্যারিয়ার ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা’ শীর্ষক একটি দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। একই সেশনে অধ্যাপক মাহবুব আলী প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের ওপর একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, যা শিক্ষার্থীদের সমসাময়িক সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি সম্পর্কে বাস্তব ধারণা দিতে সহায়ক হয়।
অনুষ্ঠানে বিইউবিটির উপাচার্য এ বি এম শওকত আলী তাঁর বক্তব্যে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা এবং উচ্চতর একাডেমিক গবেষণার মধ্যকার ব্যবধান কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী
দিনব্যাপী এই আয়োজন শেষ হয় এক জমকালো পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। প্রতিযোগিতার সমাপনী পর্বে তিনটি বিভাগের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয় এবং বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
অলিম্পিয়াডের নিয়ম অনুযায়ী, বিজ্ঞান বিভাগে প্রথম ও তৃতীয় স্থান অধিকার করে জেইউ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আর দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজ।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে প্রথম স্থান লাভ করে সাভার সরকারি কলেজ, দ্বিতীয় হয় জেইউ স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ।
অন্যদিকে, মানবিক বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে দনিয়া কলেজ, দ্বিতীয় স্থান পায় জেইউ স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং তৃতীয় হয় সেন্ট যোসেফ কলেজ।
বিজয়ীদের প্রাইজমানি, সম্মাননা স্মারক ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। পাশাপাশি, অংশগ্রহণকারী সব প্রতিযোগীকে তাঁদের মেধা ও আগ্রহকে অনুপ্রাণিত করতে বিশেষ অংশগ্রহণমূলক সার্টিফিকেট দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকস অনুষদের ডিন অধ্যাপক সৈয়দ মাসুদ হোসেনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। সমাপনী বক্তব্যে বিইউবিটির অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান এ ধরনের উদ্যোগকে সফল করে তোলায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
