বাংলাদেশে উন্নত প্রকৌশল দক্ষতা, শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা, গবেষণা এবং উচ্চমূল্য সংযোজিত প্রযুক্তি সেবা খাতের বিকাশে নতুন এক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ‘ড্যাফোডিল সিএই সেন্টার, বাংলাদেশ’৷ রাজধানীর সোবহানবাগে ড্যাফোডিল প্লাজায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই কেন্দ্রের শুভ উদ্বোধন এবং এর প্রথম ব্যাচের ওরিয়েন্টেশন সম্পন্ন হয়। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ), প্রয়াস প্রযুক্তি ফাউন্ডেশন এবং ছয়টি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে এই কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মূলত সম্প্রতি এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) ধারাবাহিকতায় সিএই ভিত্তিক শিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং আধুনিক সিমুলেশন প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে কেন্দ্রটি কাজ শুরু করল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল গ্রুপ ও ডিআইইউ-এর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান। তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জ্ঞান ও উন্নত প্রকৌশল দক্ষতার ওপর নির্ভর করছে এবং এই সেন্টার শিক্ষা ও শিল্পের মধ্যে একটি চমৎকার ইকোসিস্টেম গড়ে তুলবে। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএসএ-ভিত্তিক গামা টেকনোলজিস ইনকর্পোরেটেড-এর কো-ফাউন্ডার ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. সাঈদ ওয়াহিদুজ্জামান, যিনি এই কেন্দ্রকে বিশ্বমানের প্রযুক্তি বিনিময়ের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে অভিহিত করেন। অনুষ্ঠানে ডাটাসফট ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড অ্যাসেম্বলি ইনকর্পোরেটেড লিমিটেড-এর চেয়ারম্যান মাহবুব জামানসহ বেসিস এবং বিভিন্ন শিল্প ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অটোমোবাইল, সেমিকন্ডাক্টর, বিমান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের মতো আধুনিক শিল্পে সিএই প্রযুক্তির গুরুত্ব অপরিসীম। আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গামা টেকনোলজিস ইনকর্পোরেটেড কেন্দ্রটিকে উচ্চমূল্যের সিএই সফটওয়্যার লাইসেন্স প্রদান করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে সিস্টেম মডেলিং অ্যান্ড সিমুলেশন দিয়ে কার্যক্রম শুরু করলেও পর্যায়ক্রমে এতে ফাইনাইট এলিমেন্ট অ্যানালাইসিস, কম্পিউটেশনাল ফ্লুইড ডায়নামিক্স, ডিজিটাল টুইন ও ইন্ডাস্ট্রি ৪.০-এর মতো প্রযুক্তি যুক্ত করা হবে, যা বাস্তব উৎপাদনের আগেই ডিজিটালভাবে নকশা ও পরীক্ষা চালানোর সুযোগ করে দেবে। ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স, ডাটাসফট এবং কার্ল বেঞ্জ অটো কেয়ারের মতো দেশি-বিদেশি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথ গবেষণা ও ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে কেন্দ্রটি দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশকে প্রকৌশল ও কম্পিউটেশনাল প্রযুক্তির আঞ্চলিক উৎকর্ষকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করবে।

