এল নিনোর প্রভাবে চরম আবহাওয়ার সতর্কতা ডব্লিউএমওর

জাতিসংঘের আবহাওয়া ও জলবায়ু বিষয়ক সংস্থা ডব্লিউএমও এক জরুরি সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যবর্তী সময়ে এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। সংস্থাটির মতে, প্রশান্ত মহাসাগরের ক্রান্তীয় অঞ্চলে ইতিমধ্যে এল নিনোর প্রভাব দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে এবং আগামী কয়েক মাসে এর তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনার প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ, খরা, অতিবৃষ্টিসহ চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।

এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, যেখানে মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায়। সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর অন্তর এই ঘটনাটি ঘটে এবং এর স্থায়িত্ব থাকে ৯ থেকে ১২ মাস। ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো জানিয়েছেন, এল নিনোর তীব্রতা বাড়লে স্থল ও সমুদ্রে তাপপ্রবাহের পাশাপাশি ভারী বৃষ্টিপাত এবং খরার মতো দুর্যোগের আশঙ্কা তৈরি হয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জলবায়ু কেন্দ্রের মডেল অনুযায়ী, মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ডব্লিউএমওর পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ ছিল এল নিনো, আর ২০২৪ সাল ইতিমধ্যে ইতিহাসের রেকর্ড করা সবচেয়ে উষ্ণ বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। যদিও এল নিনোর সর্বোচ্চ প্রভাব সাধারণত নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থায়ী হয়, তবুও এর ফলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। সংস্থাটি কৃষি ও স্বাস্থ্যসহ জলবায়ু-সংবেদনশীল খাতগুলোতে আগাম সতর্কতা ও মৌসুমি পূর্বাভাস জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে বিশ্বের অধিকাংশ জনবসতিপূর্ণ এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা বিরাজ করতে পারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকলেও ভারতীয় উপমহাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। ডব্লিউএমও আরও জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এল নিনোর সংখ্যা বা তীব্রতা বাড়ছে এমন সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না থাকলেও, উষ্ণতর সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডল চরম আবহাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি ও আর্দ্রতা সরবরাহ করে এল নিনোর প্রভাবকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।