গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর নকআউটের প্রথম ম্যাচে আইভরি কোস্টকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে নরওয়ে। দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা দেশটির এমন সাফল্যে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। তবে এই সাফল্যের জোয়ারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সমর্থকদের বিপুল চাহিদার জোগান দিতে গিয়ে এখন হিমশিম খাচ্ছেন জার্সি বিক্রেতারা। বাংলাদেশ সময় রোববার দিবাগত রাত ২টায় নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে নরওয়ে। এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে নিজেদের দলকে সমর্থন জানাতে সমর্থকরা বাজারে জার্সি খুঁজছেন, কিন্তু পর্যাপ্ত জোগান নেই।
নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি লিজ ক্লাভেনেস জানিয়েছেন, দলের জার্সির চাহিদা এখন আকাশচুম্বী। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে রাউন্ড অব ৩২-র ম্যাচটি গ্যালারিতে বসে দেখার সময় তিনি নিজেও নরওয়ের লাল জার্সি পরিহিত ছিলেন। ক্লাভেনেসের মতে, এই চাহিদার পেছনে চমকপ্রদ কোনো কারণ আছে নাকি উৎপাদন ঘাটতি রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “আমাদের জার্সির জন্য এখন অসম্ভব রকমের চাহিদা। আমরা সবাই এটি বুঝতে পারছি। তবে এই এত চাহিদা কি আসলে চমকে দেওয়ার মতো নাকি উৎপাদনেই ঘাটতি ছিল, তা আমরা খুঁজে বের করব।”
নরওয়ের টিভি২ টেলিভিশন চ্যানেলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যেসব দোকানে জার্সি পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে আগ্রহীদের লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে। দোকানে জার্সি আসার অল্প সময়ের মধ্যেই তা শেষ হয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে ক্লাভেনেস দুঃখ প্রকাশ করে জানান, তারা গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করতে চান, কিন্তু যা সরবরাহ আছে তার বেশি বিক্রি করা অসম্ভব।
১৯৯৮ সালের পর এটিই নরওয়ের প্রথম বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ। আর্লিং হলান্ড ও আন্তোনিও নুসাদের মতো তারকাদের পারফরম্যান্স ভক্তদের মুগ্ধ করেছে। বিশ্বকাপে নরওয়ের সাফল্য এবং হলান্ডের বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তার কারণে জার্সির চাহিদা তুঙ্গে পৌঁছেছে। উল্লেখ্য, নরওয়ে এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে তিনটি ভিন্ন রঙের জার্সি ব্যবহার করেছে। ইরাক ও ফ্রান্সের বিপক্ষে লাল রঙের হোম জার্সি, সেনেগালের বিপক্ষে কালো জার্সি এবং রাউন্ড অব ৩২-র ম্যাচে তারা সাদা জার্সি পরে মাঠে নেমেছিল। এখন ব্রাজিল ম্যাচের আগে সবাইকে জার্সি দিতে পারা দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

