শরীয়তপুর সদর উপজেলার তুলাশার ইউনিয়নের বাইশরশি এলাকায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এনামুল হক (৪৬) নামে এক মসজিদের ইমামকে আটক করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত এনামুল হক সদর উপজেলার রুদ্রকর ইউনিয়নের চরসন্দি গ্রামের বাসিন্দা এবং তিনি বাইশরশি জামে মসজিদের ইমাম হিসেবে কর্মরত আছেন।
ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার সকালে শিশুটি তার ভাইয়ের সাথে মক্তবে পড়তে গিয়েছিল। বৃষ্টির কারণে ওইদিন মক্তবে অন্য কোনো শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল না। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই সুযোগে অভিযুক্ত ইমাম শিশুটির ভাইকে পানি আনার কথা বলে বাইরে পাঠিয়ে দেন এবং একা পেয়ে শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করেন। পরে শিশুটি বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়।
ভুক্তভোগীর বাবা শহিদুল বেপারী জানান, ঘটনার দিন বৃষ্টির কারণে অন্য কোনো শিশু ছিল না। আমার ছেলেকে পানি আনতে পাঠিয়ে আমার মেয়ের শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করা হয়েছে, যা সে বাড়িতে এসে আমাদের জানিয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিকেলে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে পালং মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ এনামুল হককে আটক করে। বুধবার সকালে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম।
অন্যদিকে, অভিযুক্তের পরিবার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এনামুল হকের ছেলে এহসানুল হক কাউসার দাবি করেন, তার বাবা একজন সৎ মানুষ এবং তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি বলেন, ওই শিশু পড়া না পারায় বাবা তাকে সামান্য শাসন করেছিলেন, আর সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই প্রতিপক্ষ মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে।

